সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ‘বঙ্কিমদা’! ভরা লোকসভায় দাঁড়িয়ে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে অন্তত চারবার ‘দাদা’ বলে ডেকেছেন স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মাস্টারদা সূর্য সেন তাঁর কাছে শুধুই ‘মাস্টার’। আর বিপ্লবী পুলিনবিহারী দাসকে বানিয়েছেন ‘পুলিনবিকাশ দাস’। তাঁর সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত তো আরও এককাঠি সরেস! লোকসভায় ‘বন্দেমাতরম’ রচয়িতার নাম উচ্চারণে বারকয়েক ঠোক্কর খেয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত থেমেছেন ‘বঙ্কিমদাস চ্যাটার্জি’তে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পিছিয়ে নেই। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর মুখে কবিগুরু হয়েছেন ‘রবীন্দ্রনাথ সানিয়াল’। সুভাষচন্দ্র বসুকে অবলীলায় ‘নেতাজি সুভাষ প্যালেস’ বলেছেন দিল্লির ‘গেরুয়া’ মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। বাংলার বরেণ্য মনীষীদের নাম ও তার উচ্চারণে বারবার হোঁচট খেয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এতে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ট্রোল’ নয়, শিক্ষিত বাঙালিদের মধ্যেও গেরুয়া শিবির সম্পর্কে তৈরি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। অবশেষে তা নিয়ে ‘বোধোদয়’ হল রাজ্য নেতৃত্বের। আসন্ন ভোটের প্রচারে এহেন বিপত্তি এড়াতে কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য বঙ্গ বিজেপি নিয়োগ করছে ‘গৃহশিক্ষক’! রাজ্যের দুই নেতা রীতিমতো ‘হোমটাস্ক’ দিয়ে দিল্লির বক্তাদের মনীষীদের নাম উচ্চারণ শেখাবেন। কোন জেলায় কোন মনীষীর জন্ম, বা কোন জেলা কী জন্য বিখ্যাত— সেই তালিকাও তাঁরা পাঠাচ্ছেন রাজধানীতে।



