নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার দেশজুড়ে যে ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল, তাতে বিঘ্নিত হল পরিষেবা। আজ শনিবার সপ্তাহের দ্বিতীয় শনিবার থাকায় পরপর তিনদিন ব্যাংক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন গ্রাহকরা। কর্মী ও অফিসারদের ইনসেন্টিভ সংক্রান্ত বৈষম্য এবং সপ্তাহে পাঁচদিন ব্যাংক পরিষেবা চালু রেখে প্রতি শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে এই ধর্মঘটের ডাক দেয় ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাংক ইউনিয়নস। এই মঞ্চের আওতায় আছে কর্মী ও অফিসারদের সংগঠনগুলি। অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, গোটা দেশে আট লক্ষের বেশি কর্মী এদিনের ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। তাঁর কথায়, শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলিতেই এই ধর্মঘট সফল হয়নি, বেসরকারি ব্যাংকগুলির বড়ো অংশ এই ধর্মঘটে শামিল হয়েছিল। অংশ নিয়েছিল গ্রামীণ ব্যাংকও। শুভজ্যোতিবাবুর কথায়, আমরা আশা করব, এরপর সরকার আমাদের দাবিগুলিতে ইতিবাচক সাড়া দেবে এবং ইনসেন্টিভ সংক্রান্ত প্রশ্নে বিমাতৃসুলভ আচরণ করবে না। বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রাজেন নাগর বলেন, ধর্মঘট সফল হওয়ার পরও এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া আমরা পাইনি। হয়তো সবাই ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত। আমাদের ঘোষণা ছিল, আগামী ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিনদিনের জন্য ফের ধর্মঘট হবে। সেইমতো আমরা প্রস্তুতি শুরু করছি।
এদিকে, ব্যাংক ধর্মঘটের প্রভাবে কলকাতা শহরজুড়ে বিপাকে পড়লেন সাধারণ মানুষ। এদিন বন্ধ ছিল শহরের বেশিরভাগ এটিএম। ফলত, নগদ টাকার জন্য এক এটিম থেকে অন্য এটিএম ঘুরে বেড়াতে হল গ্রাহকদের। রানিকুঠির বাসিন্দা সুনন্দন পাত্র বলছিলেন, ‘ব্যাংক ধর্মঘটের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। এখন দেখছি, কোনো এটিএম খোলা নেই। অটোয় চেপে এক এটিএম থেকে আরেক এটিএম ঘুরছি। একগাদা টাকা খরচ হয়ে গেল কিন্তু এটিএম পেলাম না।’ গড়িয়াহাট চত্বরে দেখা গেল, বাজার করতে আসা অনেকেই এটিএমের সামনে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে এলেন। তাঁদের বক্তব্য, এটিএম খোলা আছে কিন্তু টাকা নেই।



