Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সন্দেশখালি দিয়েই জলপথে ভারতে প্রবেশ, স্বীকার করছে বাংলাদেশিরা

এসআইআর পর্বে স্বভুমিতে ফিরছে বাংলাদেশিরা। দালাল বা ধুর ধরে চোরাপথে এদেশে এসেছিল রাতের অন্ধকারে। ভারতে অনুপ্রবেশের সিংহভাগ ক্ষেত্রে ‘সেফ জোন’ সন্দেশখালি।

সন্দেশখালি দিয়েই জলপথে ভারতে প্রবেশ, স্বীকার করছে বাংলাদেশিরা
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: এসআইআর পর্বে স্বভুমিতে ফিরছে বাংলাদেশিরা। দালাল বা ধুর ধরে চোরাপথে এদেশে এসেছিল রাতের অন্ধকারে। ভারতে অনুপ্রবেশের সিংহভাগ ক্ষেত্রে ‘সেফ জোন’ সন্দেশখালি।  সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এই এলাকার জলপথকে মাধ্যম করেই এদেশে আসে বাংলাদেশিরা। অকপটে তা স্বীকার করছে মহম্মদ ইউনুসের দেশের বাসিন্দারা। এখন এসআইআর পর্বে দেশে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর অন্য কোনও উপায় দেখছে না অনুপ্রবেশকারীরা। 

Advertisement

বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ, সন্দেশখালি আর হিঙ্গলগঞ্জ। ‘জিরো পয়েন্ট’  বলে পরিচিত একাধিক নদী। বিএসএফের নজরদারি চলে অরক্ষিত জলপথেই। কিন্তু রাতের অন্ধকারে বিএসএফের নজর এড়িয়ে যে দালালরা বেশ সক্রিয়, তা স্পষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশিদের কথাতেই। এসআইআর পর্বে বাংলাদেশিদের বাড়ি ফেরার হিড়িকই তাতে সিলমোহর দিয়েছে। মূলত সন্দেশখালির ধামাখালি দিয়ে বেশি অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলেই গোয়েন্দাদের তথ্যে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশিরাও তা স্বীকার করে নিচ্ছে। 
কীভাবে এই করিডর চলত? সূত্রের খবর, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে কৈখালি ঢোকে বাংলাদেশিরা। এরপর কৈখালি থেকে শোলখালি হয়ে জলপথে ভারতের সামশেরনগর ৪ নম্বর এলাকায় আসা যায় অনায়াসে। ভিড়ে মিশে সেখান থেকে পৌঁছে যাওয়া যায় এ রাজ্যের যে কোনও জনপদে। অপরদিকে হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি থেকে ভাণ্ডারখালি হয়ে সহজেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাওয়া যায়। সূত্র বলছে, খুলনা থেকে সাহেবখালি হয়ে দুলদুলি ঘাটে পৌঁছয় বাংলাদেশিরা। এরপর অনায়াসেই রায়মঙ্গল নদী পেরিয়ে ভাণ্ডারখালি। সেখান থেকে নদী পেরিয়ে সন্দেশখালি। এছাড়াও বাংলাদেশের কুমিরখালি থেকে রায়মঙ্গল পেরিয়ে সহজেই সন্দেশখালি আসা যায়। এরই পাশাপাশি শামসেরনগর থেকে সন্দেশখালির সর্দারপাড়া হয়ে জলপথে পৌঁছে যাওয়া যায় ধামাখালি। গোয়েন্দারা বলছেন, চোরাগোপ্তা এই রুটগুলি বাংলাদেশি স্মাগলাররা ব্যবহার করে। 
অপরদিকে এসআইআর পর্বে হাসনাবাদ হয়ে ইছামতী নদী পেরিয়ে চোরাপথে বাংলাদেশিরা দেশে ফিরছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও ভাঙা তুষখালি, ভোলাখালি বা ন্যাজাটের ঘাট দিয়েও বাংলাদেশিরা এদেশে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় ছোট নৌকা ও বড় টায়ার। যা নিঃশব্দে জলে ভাসে। সন্দেহ হয় না কারও। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য সন্দেশখালিতে ঘাঁটি তৈরির খবরও রয়েছে। স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে ক’দিন আগে চেকপোষ্টে অপেক্ষা করছিলেন বাংলাদেশি ফারুক আহমেদ। বাড়ি খুলনায়। ফারুক জানিয়েছিলেন, বছর ছ’য়েক আগে ধামাখালি হয়ে রাতের অন্ধকারে ভারতে আসার কাহিনী। সকালের আলো ফুটতেই ধামাখালি থেকে কীভাবে কলকাতায় পৌঁছেছিল, সে গল্পও শুনিয়েছিল এই অনুপ্রবেশকারী। ফারুকের কথায়, সেখানে গিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করি। পরে রংয়ের কাজ করতাম বিধাননগরে। একই কথা বলেছেন রূপসা পারভিনও। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরায়। তাঁর কথায়, কাজে খোঁজে সাড়ে তিনবছর আগে হিঙ্গলগঞ্জেরর দুলদুলি ঘাট হয়ে বসিরহাটে পৌঁছেছিলাম। দালালকে দিতে হয়েছিল ১০ হাজার টাকা। পরে চলে যাই বাগুইআটিতে। সেখানে পরিচারিকার কাজ করতাম।

সম্পর্কিত সংবাদ