Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ড্রোন নিয়ে হাইকোর্টে বাংলাদেশি তত্ত্ব, কড়া নজরদারির নির্দেশ

ড্রোন নিয়ে হাইকোর্টে বাংলাদেশি তত্ত্ব, কড়া নজরদারির নির্দেশ
  • ২৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি কলকাতার আকাশে ড্রোন দেখা যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে কম জলঘোলা হয়নি। সেদিন কলকাতায় ড্রোনের অস্তিত্ব নিয়ে সেনাবাহিনীর তরফে কোনও অফিশিয়াল বিবৃতি না দেওয়া না হলেও মনে করা হচ্ছে, মহেশতলার দিক থেকে ড্রোনগুলি উড়ে এসেছে। এ নিয়ে মামলার জেরে মহেশতলা এলাকায় কড়া নজরদারির নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের গ্রীষ্মাবকাশকালীন বেঞ্চ। কারণ, মামলায় উঠে এসেছে বাংলাদেশি তত্ত্ব। ফলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ড্রোন যোগের সম্ভাবনা। 

Advertisement

মামলাকারী মহেশতলা এলাকার বাসিন্দা শেখ ইকবালের অভিযোগ, মহেশতলা পুরসভা এলাকার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর একটি সম্পত্তি ছিল। আর্থিক অনটনের জন্য ২০১৬ সালে তিনি রাশিদুল হাসান নামে এক ব্যক্তিকে ওই সম্পত্তি তথা বাড়িটি বিক্রি করে দেন। রাশিদুল নিজেকে ভারতীয় পরিচয় দিয়ে ওই সম্পত্তি কিনেছিলেন। অভিযোগ, মামলাকারী পরে জানতে পারেন, রাশিদুল আদৌ এদেশের বাসিন্দা নন। তিনি আসলে বাংলাদেশি। নথি জাল করে তিনি ওই বাড়িটি কিনেছিলেন এবং অপারেশন সিন্দুরের পর থেকে ওই বাড়িতে তিনি সন্দেহজনক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিসে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি বলে দাবি শেখ ইকবালের। যে কারণে তিনি সেল ডিড বাতিলের জন্য এবং যথাযথ পুলিসি পদক্ষেপের জন্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। 
বুধবার বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেন, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক। তাঁর কাছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে। অপারেশন সিন্দুরের পর থেকে তাঁর বাড়িতে সন্দেহজনক কাজকর্ম করা হচ্ছে। আচমকাই ২৫ থেকে ৩০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। রাতেও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ওই এলাকা থেকে সম্প্রতি কলকাতার আকাশে ড্রোন উড়ে যাওয়ার তত্ত্ব পেশ করেন মামলাকারীর আইনজীবী। তাঁর আরও দাবি, অভিযোগ জানালেও পুলিস কোনও পদক্ষেপ করছে না। এটা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন। অথচ বাড়িটি কেনার সময় নিজেকে ভারতীয় বলে পরিচয় দিয়েছিলেন রাশিদুল। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, পুলিস ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করেছে। তদন্ত চলছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির পাশাপাশি মামলাকারীও বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকতে পারেন। বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট এখনও আসেনি। পেট্রাপোল এলাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মীয়দের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মহেশতলা থানাও এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে চায়। মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হোক। সবপক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় মহেশতলা এলাকায় পুলিসকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ২৩ জুন নিয়মিত বেঞ্চে মামলার পরবর্তী শুনানি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ