নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের জন্য শনিবার বাংলাদেশের রংপুর মেট্রোপলিটনের প্রাক্তন সহকারী পুলিস কমিশনার মহম্মদ আরিফুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করল স্বরূপনগর থানার পুলিস। তাঁকে শনিবারই স্বরূপনগরের হাকিমপুরে আটক করেছিল বিএসএফের১৪৩ নম্বর ব্যাটালিয়ন। পরে তাঁকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিস গ্রেপ্তার করে আরিফুজ্জামানকে। রবিবার আদালতে তোলা হলে তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
কে এই আরিফুজ্জামান? বাংলাদেশের আর্মড পুলিসের ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিস সুপার হিসেবে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় কর্মরত ছিলেন শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ ঘনিষ্ঠ এই পুলিসকর্তা। গতবছর ৫ আগস্টের পর আরিফুজ্জামানকে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছায় এপিবিএন-২-এ বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি যোগদান করেননি। শেষ পর্যন্ত গত বছরের ১৪ আগস্ট বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে হাজির না হওয়ায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। সেই থেকে তিনি বেপাত্তা ছিলেন। ছাত্র আন্দোলনে পুলিসের গুলিতে নিহত আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ওই পুলিস কর্তা। হাসিনা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি রংপুরের কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার ছিলেন। গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুরে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সইদকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়াতে গুলি চালানোর ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায় এক কনস্টেবলের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছেন আরিফুজ্জামান। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জ গঠন করা হয়। এরমধ্যে ছ’জন গ্রেপ্তারও হয়েছে। মামলায় আরিফুজ্জামান চার নম্বর অভিযুক্ত। এই ঘটনা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে তাঁর নামে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সাজা হতে পারে অনুমান করেই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই পুলিস আধিকারিক। পশ্চিমবঙ্গে তাঁর শশুরবাড়ি। যে কারণে এখানে এসে পাকাপাকিভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো যোগাযোগও করেন। বৈধভাবে ভারতে আসার ভিসা পাবেন না বলেই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরোন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন আরিফুজ্জামান। ভারতে এসে নাম বদলে ভোটার কার্ড, আধার সহ বিভিন্ন নথি তৈরির পরিকল্পনায় ছিলেন। গা ঢাকা দিয়ে থাকাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। তবে, তাঁর সঙ্গে আর কোনও পুলিসের কর্তা বা হাসিনা ঘনিষ্ঠ এদেশে রয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। অন্য আর কোনও উদ্দেশ্য ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।