মৃণালকান্তি দাস, কলকাতা: ইউনুস সরকার নিষিদ্ধ করায় দেশের অন্যতম প্রধান দল আওয়ামি লিগকে এবার দেখা যাবে না ভোটের ময়দানে। দলের শীর্ষ নেতাদের স্লোগান, ‘নো বোট নো ভোট’— অর্থাৎ নৌকা নেই, ভোটও নেই। তবুও সব রাজনৈতিক দলের কাছে প্রশ্ন একটাই, নৌকাবিহীন ব্যালটে আওয়ামি লিগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা কাকে ভোট দেবেন? সেই অঙ্কেই দুলছে ক্ষমতার পাল্লা। বিশ্লেষকরা বলছেন, তাদের কাছে এখন একমাত্র বিকল্প বিএনপি বা তাদের সমমনস্ক দলগুলি। কারণ, বিএনপির নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তৃতা-বিবৃতিতে আওয়ামি লিগের প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে।
পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস) আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীদের কিছুটা মনোভাব তুলে ধরেছে। তাদের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আওয়ামি লিগ ভোটারদের ৩২.৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দিতে পারেন। আর ১৩.২ শতাংশ জামাতকে। ৪১.৩ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, দেখা গিয়েছে, আগে যাঁরা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বা পছন্দ প্রকাশ করেননি, তাঁদের বেশিরভাগই জামাতের তুলনায় বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। সাংবাদিক সোহরাব হাসানের কথায়, একটানা ১৫ বছরের শাসন ও তিনটি প্রহসনমূলক নির্বাচনের কারণে আওয়ামি লিগের জনপ্রিয়তা কমেছে সত্যি। কিন্তু ধস নামেনি। আওয়ামি লিগের জনসমর্থন যদি সর্বনিম্ন স্তরেও থাকে, তাহলেও তারা নির্বাচনের ফলাফলকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থকদের অর্ধেক ভোটারও যদি কেন্দ্রে উপস্থিত থাকেন, তাঁরা যে দল ও প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখবেন, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এই কারণেই ভোট প্রচারে বিএনপি, জামাতে ইসলামিসহ প্রায় সব দল আওয়ামি ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা চালিয়েছে।
এবারের মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। এই ভোটারদের মধ্যে চার থেকে সাড়ে চার কোটি তরুণ ভোটার, যারা প্রথম ভোট দেবে। তাদের ভোটের কোনো ঐতিহাসিক ডেটা নেই। এছাড়া ভোটারের প্রায় অর্ধেক মহিলা। ফলে নারী ভোটারদের ভোট এবারের ফলাফলে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রকাশিত দুটি জনমত সমীক্ষার দিকে তাকান। দুটিই প্রকাশিত হয়েছে ৯ ফেব্রুয়ারি। এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি)-এর সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়ী হতে পারে। জামাতে ইসলামি নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন ৪৬টি। এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন। নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি, ৭১.১ শতাংশ। অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি)-এর সমীক্ষায় বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৪৪.১ শতাংশ ভোট পেতে পারে, আর জামাতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৪৩.৯ শতাংশ। তরুণ ও নারী ভোটাররা জামাত-এনসিপি জোটের দিকে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আ