সংবাদদাতা, কান্দি: কেবলমাত্র সাংস্কৃতিক চর্চা নয়, সামাজিক ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে মেল বন্ধন ঘটাতে কান্দিতে শুরু হয়েছে রাজ্য সরকারের বাংলা মোদের গর্ব অনুষ্ঠান। শুক্রবার দুপুরে কান্দি শহরের মোহনবাগান মাঠে তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী আখরুজ্জামান ও কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার। প্রথমে ফিতে কেটে ও পরে প্রদীপ জ্বালিয়ে উদ্বোধন করা হয়। তিন দিন ধরে চলবে অনুষ্ঠান।
এই অনুষ্ঠানের যৌথভাবে আয়োজন করেছে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, কান্দি পঞ্চায়েত সমিতি ও কান্দি পুরসভা। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, রবিবার পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান চলবে। তিনদিন ধরে প্রদর্শনী, মেলা, এক্সপো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দুপুর ৩টে থেকে প্রদর্শনী শুরু হলেও প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। সেখানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি রাজ্যের নামী শিল্পীরাও অংশ নেবেন। রাইবেঁশে, সমবেত নৃত্য, সমবেত সঙ্গীত, আবৃত্তি ইত্যাদি থাকছে।
এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক প্রবাল বসাক, কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্থপ্রতিম সরকার, কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান জয়দেব ঘটক, কান্দি এসডিপিও শাশ্রেক আম্বারদার প্রমুখ।
পার্থপ্রতিমবাবু বলেন, বাংলা মোদের গর্ব শুধু একটি সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ অনুষ্ঠান নয়। রাজ্য সরকারের এই অনুষ্ঠান মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে। সামাজিক ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠান মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক মনোভাব গড়ে তুলবে।
জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক বলেন, অনুষ্ঠানে ২২টি স্টল রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্পের সম্ভার, কৃষিক্ষেত্র ও মিশন নির্মল বাংলার মতো স্টল রয়েছে। মন্ত্রী আখরুজ্জামান বলেন, আজ বাংলার প্রতিটি কর্মসূচি বিশ্ব দরবারে আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলা বিশ্বকে এখন পথ দেখাচ্ছে। কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্য এই বাংলায় নাবালিকা বিয়ে কার্যত রোধ করা গিয়েছে। তাই আমরা এই বাংলার জন্য গর্ব বোধ করতেই পারি।
কান্দির বিধায়ক অপূর্ববাবু বলেন, মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা ও সাংস্কৃতিক বিল্পব ঘটাতে বাংলার গর্ব আনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলায় অন্তরালে চলে যাওয়া লোক শিল্পকে ফের বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য রাজ্য সরকারের এই প্রয়াস। বাংলার গর্ব অনুষ্ঠান সম্প্রীতির ঐক্য গড়ে নজির তৈরি করছে।



