Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলা আবাস যোজনা: জেলার ৩৯ হাজার উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া শুরু

বাংলা আবাস যোজনা: জেলার ৩৯ হাজার উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া শুরু
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে শুরু হয়েছিল অলিখিত অর্থনৈতিক অবরোধ! যদিও রাজ্য সরকারের সৌজন্যে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ের টাকায় অধিকাংশ উপভোক্তা নির্মাণ কাজ জারি রেখেছেন। কয়েক মাসের মধ্যেই জেলার ১৯টি ব্লকের বহু উপভোক্তাই লিন্টেন লেভেল পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সেরে ফেলেছেন। এরই মাঝে একাংশ উপভোক্তার বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কাজ শুরু না করার অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের তরফে মোট ৬৫২ উপভোক্তাকে চিহ্নিত করে নোটিসও পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম কিস্তির টাকা হাতে পেয়েও ঘরের কাজ না করলে তা ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বেশকিছু উপভোক্তা নোটিস পেতেই পাকা ঘর তৈরির কাজে শুরু করে দিয়েছেন। তবে, এখনও যাঁরা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করতে পারেননি, তাঁদের অধিকাংশই পরিযায়ী শ্রমিক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। সেক্ষেত্রে এই বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কর্তারা খতিয়ে দেখছেন। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, যাঁরা এখনও বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি, তাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিস পাঠানোর পর অবশ্য বেশকিছু উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজে মন দিয়েছেন। তবে যাঁরা এখনও বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করতে পারেননি, তাঁদের অধিকাংশই পরিযায়ী শ্রমিক। অন্যদিকে, যাঁরা লিন্টেন অবধি নির্মাণ কাজ সেরে নিয়েছেন, তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। 

Advertisement

কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্যের সরকার বাংলার প্রতিটা পরিবারের মাথার উপরের ছাদ মজবুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই মোতাবেক বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বীরভূম জেলার প্রায় ৫৩ হাজার ৫০০ জন উপভোক্তা চিহ্নিত হয়েছিলেন। মাস কয়েক আগেই প্রত্যেক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে। টাকা পেতেই উপভোক্তারা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রায় ৩৯ হাজার উপভোক্তা লিন্টেন পর্যন্ত ঘর তৈরির কাজ শেষ করেছেন। সেই সকল উপভোক্তার বাড়ি তৈরির কাজে গতি আনতে তত্পর জেলা প্রশাসনও। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় পর্যায়ের টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। তবে উল্টোদিকে টাকা পেয়েও বহু উপভোক্তা এখনও কাজ শুরু না করায় প্রশাসনিক কর্তারা যথেষ্টই উদ্বিগ্ন। তথ্য অনুসারে জানা গিয়েছে, টাকা পেয়েও কাজ শুরু না করার তালিকায় জেলায় মোট ৬৫২ জন উপভোক্তার নাম রয়েছে। তাঁরা মূলত রামপুরহাট, নলহাটি ও মুরারই অঞ্চলের বাসিন্দা। প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, অধিকাংশ উপভোক্তাই পরিযায়ী শ্রমিক। তাই তাঁদের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় নির্মাণ কাজ থমকে রয়েছে। 
এদিকে, টাকা হাতে পাওয়ার পর উপভোক্তাদের তরফে বাড়ি তৈরির কাজ কতটা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ব্লক ভিত্তিক পরিদর্শনের কাজ জারি রয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, টাকা হাতে পাওয়ার পরও কোনও উপভোক্তা নির্মাণ কাজ শুরু না করলে তাঁকে শোকজ করা হতে পারে। উপযুক্ত কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে উপভোক্তার টাকা ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে, পরিযায়ী শ্রমিক নন, এমন উপভোক্তাদের অনেকেই নোটিস পেতেই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু দিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ