Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বামী সন্তানের খোঁজে বাংলাদেশে গিয়ে জেলবন্দি, বনগাঁর মহিলা ফিরলেন ঘরে

অবৈধভাবে ভারতে ফেরার চেষ্টা করতে গিয়ে বাংলাদেশে ধরা পড়ে প্রায় আট মাস জেলে থাকতে হয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর ফাল্গুনী রায়কে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দুই দেশের উদ্যোগে তাঁকে ভারতে ফেরানো হল।

স্বামী সন্তানের খোঁজে বাংলাদেশে গিয়ে জেলবন্দি, বনগাঁর মহিলা ফিরলেন ঘরে
  • ৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: অবৈধভাবে ভারতে ফেরার চেষ্টা করতে গিয়ে বাংলাদেশে ধরা পড়ে প্রায় আট মাস জেলে থাকতে হয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর ফাল্গুনী রায়কে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দুই দেশের উদ্যোগে তাঁকে ভারতে ফেরানো হল। রবিবার দুপুরে কৃষ্ণগঞ্জ থানার গেদে এলাকা দিয়ে তিনি দুই দেশের প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ভারতের প্রবেশ করেন।

Advertisement

জানা গিয়েছে, প্রায় ১০-১১ বছর আগে বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার এক যুবক পরিচয় গোপন করে ভারতে আসে। এরপর বনগাঁর বাসিন্দা ফাল্গুনী রায়কে বিয়ে করে। তাদের একটি পুত্রসন্তান হয়। কয়েক বছর সংসার করার পর হঠাৎই ওই যুবক ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে যায়। এরপর স্ত্রীর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্বামী ও সন্তানের দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ পাননি ফাল্গুনীদেবী পরে প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে নতুন করে সংসার বাঁধেন। তবে প্রথম পক্ষের সন্তানের সঙ্গে একবার দেখা করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেই কারণেই ২০২৫ সালের জুন মাসে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে তিনি বাংলাদেশে যান। বাংলাদেশে পৌঁছে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে স্বামীর বাড়িতে গেলে সেখানে তাঁকে অপমান ও দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকী তাঁর পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র কেড়ে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপরই বিপাকে পড়েন ফাল্গুনীদেবী। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তিনি দালালের সহায়তায় ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা করেন। ২০২৫ সালের জুন মাসে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু সীমান্ত পেরনোর সময় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাঁকে আটক করে। তারপর পৃথক দুটি মামলা ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙা জেলার জেলে প্রায় আট মাস কাটাতে হয় তাঁকে। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ চুয়াডাঙার গেদে সীমান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। বাংলাদেশের দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশ, বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ফাল্গুনীদেবী বলেন, আমি চাই সন্তান যেন আমাকে ভুলে না যায়। আমি ওকে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পারলাম না। ও যেন আমার কাছে ফিরে আসে এটাই চাই। আমার আগের স্বামী ভারতে এসে বিয়ে করেছিল। তারপর বাংলাদেশে চলে যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ