Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বনগাঁ লোকালের বদনাম ঘুচবে’, ‘এসি ট্রেন আরও দরকার’, স্বস্তিতে অফিস যাত্রা, প্রথম দিনে ভাড়া বেশি নিয়ে কোনও ক্ষোভ নেই যাত্রীদের

হাবড়া স্টেশনে টিকিট কাউন্টারে যাত্রীদের লম্বা লাইন।

‘বনগাঁ লোকালের বদনাম ঘুচবে’, ‘এসি ট্রেন আরও দরকার’, স্বস্তিতে অফিস যাত্রা, প্রথম দিনে ভাড়া বেশি নিয়ে কোনও ক্ষোভ নেই যাত্রীদের
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: ‘স্বস্তির যাতায়াত খুব জরুরি। কারণ, বাড়িতে পেটপুরে খেয়ে অফিস যাচ্ছি। আরামে যাব। ভাড়া বেশি লাগুক তাও ভালো...’

Advertisement

‘একটা এসি ট্রেনেতে কি হবে। জরুরি আরও অন্তত একটা...’
‘বনগাঁ লোকাল মানেই বাদুড়ঝোলা ভিড়। এসি ট্রেনেরও একই দশা। সেই অভিশপ্ত কথা কিন্তু মিলল না...’
বনগাঁ থেকে শিয়ালদহ প্রথম দিন এসি ট্রেনে অফিস যেতে যেতে এমন সব স্বস্তির কথাই শোনালেন সুমনা, রিঙ্কু, দীনেশরা। তাঁরা নিত্যযাত্রী। কেউ ট্রেনে ওঠেন বনগাঁ থেকে। কেউ হাবড়া থেকে। কেউ গোবরডাঙা থেকে।
ঘড়ির কাঁটা সকাল আটটা ছোঁবে খানিক্ষণের মধ্যে। হাবড়া স্টেশনে টিকিট কাউন্টারে যাত্রীদের লম্বা লাইন। কেউ কাটবেন সাধারণ ট্রেনের টিকিট। তবে বেশিরভাগ যাত্রী অপেক্ষা করছেন এসি ট্রেনের টিকিট কাটবেন বলে। বিষয়টি দূর থেকে আঁচ করে এক রেলকর্মী এগিয়ে এলেন। বললেন, ‘এসির টিকিট কে কে কাটবেন?’ তাঁর কথা শুনে ভেঙে গেল টিকিটের লম্বা লাইন। কেউ এসির টিকিট কাটলেন দমদম পর্যন্ত, কেউ শিয়ালদহ অবধি। তারপর দাঁড়ালেন তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে। ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, ‘দেখ স্টেশনে এসির জন্য কি ভিড়। যা দেখছি ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে, না হলে মুশকিল।’ 
সোমবার সকাল ৭ টা ৫২ মিনিটে বনগাঁ থেকে ছাড়ল এসি লোকাল। প্রথম স্টেশন ঠাকুরনগর। যাত্রীদের ভিড়। ট্রেনের দরজা খুলতেই যাত্রীরা দৌড়ে ঢুকলেন কামরায়। ধাক্কাধাক্কি করে দখল নিলেন সিটের। ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, ‘এবার শান্তি।’ একই ছবি গোবরডাঙা স্টেশনেও। লাইনে ট্রেন আসতেই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছবি তুললেন সেলিব্রিটি এসি লোকালের। হাবড়া থেকে কলকাতায় কাজে যাচ্ছিলেন সুমনা মণ্ডল ও দেবান্ন মাইতি। তাঁরা চাকরি করেন আইটি সেক্টরে। বললেন, ‘সকাল দেখলে যেমন বোঝা যায় সারাদিন কেমন যাবে, অফিস যাওয়ার যাত্রা ভালো হল মানে সারাদিনটাই ভালো যাবে। টাকা নয়, স্বস্তিতে যাতায়াতটাই জরুরি। বাড়িতে পেটপুরে খেয়ে এবার আরামে অফিস যাচ্ছি। ভাড়া বেশি লাগে লাগুক, এটাই ভালো।’ তাঁদের থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে স্বপন দে, দীনেশ পালরা বলেন, ‘আমরা তো হাবড়া থেকে দমদম যাব। তবে ট্রেনে যা ভিড়, দেখে মনে হচ্ছে একটা এসি ট্রেনে কুলোবে না। অন্তত আরও একটা এসি দেওয়া দরকার। আশা করি বাড়াবে।’ 
অন্যদিকে পুরনো স্মৃতিতে ডুব দিলেন রিঙ্কু দেবনাথ, প্রভাস কোলেরা। তাঁরা বলেন, ‘বনগাঁ লোকাল মানেই মানুষ বোঝে, বাদুড়ঝোলা ভিড়। ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত। এসি ট্রেনেও তো একই ঘটনা দেখা যাচ্ছে। যাত্রীদের ঠাসা ভিড়। তবে হ্যাঁ, ঝুঁকি নেই, কারণ ট্রেনের গেট নির্দিষ্ট সময়েই বন্ধ হচ্ছে। তবে ভিড়ের বদনাম ঘোচার তো কোনও লক্ষণ দেখছি না।’
অন্যদিকে বারাসত, মধ্যমগ্রাম স্টেশনে ট্রেন আসতেই চেনা ভিড়ের মাত্রা আরও বাড়ল। গেট একটু খুলতেই যাত্রীরা লাফিয়ে উঠতে গেলেন। প্রতিটি কামরাতেই নন এসি সাধারণ ট্রেনের মতো ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো। অনেকে রেলওয়ে ব্রিজ দিয়ে দৌড়ে এসে উঠলেন এসি কামরায়। সবমিলিয়ে ঠাসা ভিড়। সবমিলিয়ে সুপারহিট রানাঘাট থেকে ভায়া বনগাঁ-শিয়ালদহ এসি লোকাল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ