


ঢাকা: মেঝেতে ছড়িয়ে ছেঁড়া ছবি। পড়ে রয়েছে ফটো ফ্রেমগুলির ভাঙা কাচের টুকরো। দেওয়ালের পলেস্তরা আগুনে পোড়া। ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের ছবিটিও। যেদিকে চোখ যাবে শুধুই ধ্বংসস্তূপ। যে ভবনটিতে একটা সময় সারাক্ষণ ভিড় লেগেই থাকত, আজ সেখানে অন্ধকার। এই হল ঢাকার সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে স্বাধীনতা জাদুঘরের বর্তমান চিত্র। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি মুছে ফেলতে তৎপরতা শুরু হয় বাংলাদেশে। গণভবনের মতো স্বাধীনতা জাদুঘরেও সেদিন চড়াও হয়েছিল উন্মত্ত জনতা। চলে ভাঙচুর, লুটপাট। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি। তারপর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জাদুঘরটি।
গত ২৬ মার্চ ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধুকে অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে। ১৯৭১ সালের এই দিনটিতে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে মুজিবুর দিয়েছিলেন ঐতিহাসিক সাত মার্চের ভাষণ। তারপর ১৬ ডিসেম্বর এই উদ্যানেই আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি ফৌজ। জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে ২৫ মার্চ ৪৪তম স্বাধীনতা দিবসে এই জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার। মুঘল আমল থেকে একাত্তরের বিজয় দিবস পর্যন্ত নানা ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন ও স্মারক সংরক্ষণ করে রাখা ছিল স্বাধীনতা জাদুঘরে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে যে টেবিলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্ব জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন, তার একটি রেপ্লিকা রাখা হয় এখানে। সংরক্ষিত ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত কামান সহ বেশ কিছু নিদর্শন। তবে এখন সেসব অতীত।
বাংলাদেশে পালাবদলের পর পাল্টে ফেলা হয়েছে একের পর এক রাস্তাঘাট ও প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন ভবনের নাম। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। সড়কটির নতুন নাম দেওয়া হয়েছে শহিদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ। এক নির্দেশ জারি করে সড়কটির নতুন নামকরণের কথা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এরইমধ্যে শেখ মুজিবুরকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের জন্য শাস্তির মুখে পড়লেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ভূমিদপ্তরের অফিসার সিরাজুম মুনিরা। তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।