Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

খুনের ঘটনার জেরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ২০ বছর ধরে জনমানবহীন মাকড়শা পুকুর

একটা সময় শীত পড়লেই বারাসতের মাকড়সা পুকুরে উপচে পড়ত মানুষের ভিড়। কিন্তু সেই চিত্র এখন গিয়েছে বদলে। বন্ধ পিকনিক।

খুনের ঘটনার জেরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ২০ বছর ধরে জনমানবহীন মাকড়শা পুকুর
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: একটা সময় শীত পড়লেই বারাসতের মাকড়সা পুকুরে উপচে পড়ত মানুষের ভিড়। কিন্তু সেই চিত্র এখন গিয়েছে বদলে। বন্ধ পিকনিক। মানুষের কোলাহল একেবারে নেই। ২০০৭ সালে এখানে খুনের ঘটনা ঘটেছিল। তাছাড়া পুকুরের চারপাশে জঙ্গল থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটত। পুলিশ তা রুখতে পারেনি। তাই পরিবেশের কথা ভেবে পুলিশকে লিখিতভাবে জানিয়ে পুকুরের চারপাশে মানুষ ঢোকা বন্ধ করে দেন স্থানীয়রা। সবমিলিয়ে বনেদি মাকড়সা পুকুর তার ঐতিহ্য হারিয়ে পড়ে জনমানবশূন্য হয়ে।

Advertisement

বারাসত শহরের একেবারে শেষপ্রান্তে কাঠোরে রয়েছে মাকড়সা পুকুর। বয়স কম করে ৩০০ বছর। ৫২ বিঘা জমিজুড়ে বিস্তৃত পুকুরটি। একসময় এই এলাকার প্রধান জলাধার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত জলাশয়টি। লোকমুখে চল আছে, এককালে বারাসত দিয়ে লাবণ্যবতী, শুঁটি ও বিদ্যাধরী নদী প্রবাহিত হত। তবে নদীগুলি নাব্যতা হারায়। তারপর এলাকায় তীব্র জলকষ্ট দেখা দিয়েছিল। সেই সংকট দূর করতে বারাসত লাগোয়া এলাকায় একাধিক পুকুর খনন হয়। তার একটি এই মাকড়সা পুকুর। প্রবীণ নাগরিকদের কথায়, ‘এলাকার তৎকালীন জমিদার মাখন সাহা এই পুকুর খনন করেছিলেন। সেটি মাখন সাহার পুকুর নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে মাকড়সা নাম প্রচলন হয়।’ মাকড়সা পুকুর এখন এই এলাকার তো বটেই দূরদূরান্তের মানুষের কাছেও পরিচিত একটি নাম। সেটির মালিক বর্তমানে শৈলেন মিত্রের পরিবার। তাঁরা থাকেন কলকাতায়। আগে পুকুরটির দেখভাল করত আসুরা বিবি নামে এক মহিলার পরিবার। আসুরার কাকা জহরুদ্দিন ও স্বামী নেপাল মণ্ডল ছোটবেলায় শৈলেন মিত্রের সঙ্গে বিহার থেকে এখানে চলে এসেছিলেন। পরে শৈলেন মিত্র মাখন সাহার কাছ থেকে পুকুরটি কিনে নেন। এই এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীকালে কলকাতার বেলেঘাটায় চলে যান তারা। তবে মাঝেমধ্যে মাকড়সা পুকুর এলাকায় আসতেন। জমি ও পুকুরের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিল জহরুদ্দিন ও নেপাল নামে দু’জনের উপর। শৈলেন মিত্র মারা গিয়েছেন। নেপাল ও জহরুদ্দিনও মৃত। স্থানীয়রা এখন পুকুরটির দেখভাল করে। মিত্র পরিবারের সদস্যরা মাঝে মাঝে আসেন সম্পত্তির খবর নিতে। আরেফ খাঁ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘খুনের পর ২০০৭ সাল থেকে মাকড়সা পুকুরে পিকনিক বন্ধ।’ সাহাবুদ্দিন মণ্ডল নামে এক প্রবীণ নাগরিক বলেন, ‘আগে শীত পড়লে এখানে মানুষ গিজগিজ করত। কিছু ঘটনার পর সব বন্ধ হয়ে গেল। মালিকরা কখনই কিছু বলেননি। আমরা নিজেদের স্বার্থেই মানুষের যাতায়াত বন্ধ করেছি।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ