নয়াদিল্লি: ফিরে এল মোদি সরকারের ‘কোনো প্রশ্ন নয়’ নীতি! কোভিডকালে গঠিত পিএম কেয়ার্স ফান্ডকে তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল আগেই। সম্প্রতি বাজেট অধিবেশনের আগেই প্রকাশিত মোদি সরকারের আর্থিক সমীক্ষায় আরটিআইয়ের পরিধিতে কোপ বসানোর সুপারিশ এসেছে। আর তারপরই কার্যত স্বয়ং নরেন্দ্র মোদির তরফে এল নির্দেশ—এবার থেকে পিএম কেয়ার্স ফান্ড নিয়ে লোকসভাতেও কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না! গত পাঁচ বছরের বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, এই তহবিলে জমা পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। অতীতেও পিএম কেয়ার্স ফান্ডের স্বচ্ছতা ও লেনদেন নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধীরা। কোনোবারই মোদি সরকারের তরফে জবাব দেওয়া হয়নি। এবার একধাপ এগিয়ে এই ফান্ড নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগই রাখা হল না।
সূত্রের খবর, গত ৩০ জানুয়ারি লোকসভার সচিবালয়কে এমনই নির্দেশিকা পাঠিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। তবে শুধু পিএম কেয়ার্স ফান্ড নয়, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ) ও ন্যাশনাল ডিফেন্স ফান্ডকেও (এনডিএফ)। অর্থাৎ, এই তিন তহবিল নিয়েই আর কোনো সওয়াল শুনতে রাজি নয় মোদি সরকার। তার পরেই কেন্দ্রের এই তুঘলকি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। সোমবার এক্স হ্যান্ডলে কংগ্রেসের তোপ, ‘চূড়ান্ত একনায়কতন্ত্র চলছে। এই ঘটনাটি শুধু সংসদের অপমানই নয়, সাংসদের অধিকারের উপর বড়ো একটা আঘাতও বটে।’ বিস্ফোরক তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষও। তিনি লেখেন, ‘পিএম কেয়ার্সের মতো অস্বচ্ছ সংস্থায় যাওয়া কোটি কোটি টাকা নিয়ে এতদিন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে পারতেন না। এবার সংসদেও এনিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। পিএম কেয়ার্স ফান্ড নিয়ে আমিও বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছিলাম। কিন্তু সেগুলির কোনোটাই তালিকাভুক্ত হয়নি। এই টাকা গোপনে কীসের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে? এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। মোদি সরকারের আমলে প্রতিদিন গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।’
মোদি সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এক্ষেত্রে লোকসভা বিধির ৪১(২)(৮) এবং ৪১(২)(১৭) ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। সংসদের কার্যবিবরণীর এই দুই ধারায় কী বলা আছে? তা হল, মূলত যে যে বিষয়ের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই কিংবা সরকারের প্রতি দায়বদ্ধ নয় এমন কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি জড়িত তা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা বা আলোচনা করা যায় না। যদিও হাত শিবিরের দাবি, ‘সাংসদরা তো জনপ্রতিনিধি। তাহলে কেন জনস্বার্থে তাঁদের প্রশ্ন করতে দেওয়া হচ্ছে না? মোদি সরকার কেন আম জনতার কয়েক হাজার কোটি টাকার হিসাব দিতে চাইছে না? দেশের জনগণের কাছ থেকে কেন্দ্র ঠিক কী লুকোতে চাইছে? ভারতের সংসদ কি এবার থেকে নরেন্দ্র মোদির খেয়ালখুশি মতো চলবে?’ কেরল কংগ্রেস একধাপ এগিয়ে দাবি করেছে, ন্যাশনাল ডিফেন্স ফান্ড নিয়ে প্রশ্নেও নিষেধাজ্ঞার অর্থ একটাই—নির্ঘাৎ সেখানেও বড়োসড়ো কোনো ঘোটালা হচ্ছে। সুর চড়িয়েছেন সিপিআইএমএল (লিবারেশন)-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও। তিনি বলেন, ‘সিএসআর ও মানুষের অনুদানে চলা তহবিল নিয়ে জনসমীক্ষায় কিসের এত ভয়?’
সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থানের সপক্ষে যুক্তিও খাড়া করেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। বলা হয়েছে, তিন তহবিলেই কেন্দ্র সরাসরি অর্থ বরাদ্দ করে না। সেই কারণে এ সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন বা নোটিস গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যদি এই তহবিলগুলিকে নিয়ে জিরো আওয়ারে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে বা বিশেষ কোনো মেনশন করা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।