Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতী চত্বরে ভারী গাড়িতে নিষেধাজ্ঞা, বসল পুরানো বোর্ড

বিশ্বভারতী চত্বরে ভারী গাড়ির চলাচল নিষিদ্ধ করা হল পুরানো নির্দেশিকার ভিত্তিতে। নিরাপত্তার জন্য নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর। বিস্তারিত পড়ুন।

বিশ্বভারতী চত্বরে ভারী গাড়িতে নিষেধাজ্ঞা, বসল পুরানো বোর্ড
  • ২০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর আশ্রম এলাকার রাস্তায় প্রতিদিনই চলছে বালিবোঝাই ডাম্পার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভারী পণ্যবাহী গাড়ি। তার জেরে বাড়ছে ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা। রাস্তারও ক্ষতি হচ্ছে। অথচ প্রশাসন বা বিশ্বভারতী কারও তৎপরতা চোখে পড়ছে না বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। এই পরিস্থিতিতে আশ্রম এলাকায় ফের নজরে এসেছে পুরানো সরকারি নির্দেশিকা বোর্ড। নতুনভাবে সেই বোর্ড বসানো হয়েছে বিশ্বভারতী চত্বরে।

Advertisement

বোর্ডে জানানো হয়েছে, বীরভূমের তৎকালীন জেলাশাসকের ২০১২ সালের ২৯ মে জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিশ্বভারতীর নির্দিষ্ট কয়েকটি রাস্তায় ভারী, মাঝারি ও হালকা পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা বোলপুর-শান্তিনিকেতন রোডে নিশা হোটেল থেকে রতনকুঠি গেস্ট হাউস এবং পোস্ট অফিস থেকে সঙ্গীত ভবন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এমনকি, দিন ও রাতে হর্ন বাজানোও ওই এলাকায় নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, শিক্ষা ভবন মোড় পর্যন্ত কেন এই নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হল না? তাঁদের দাবি, শ্রীনিকেতনের কালিসায়ের মোড় থেকে শিক্ষা ভবন হয়ে শ্যামবাটি বাজার পর্যন্ত নিয়মিত ভারী ডাম্পার চলাচল করে। একই সঙ্গে পথচারী ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। 
শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক তথা প্রবীণ আশ্রমিক অনিল কোনার বলেন, ভারী গাড়ির জন্য রাস্তায় হাঁটাই  দায়। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। শুধু দিনের বেলা নয়, রাতেও এই নিয়ম কার্যকর করা উচিত। কারণ রাতের দিকেও হেরিটেজ এলাকার ভিতর দিয়ে ভারী গাড়ি যাতায়াত করে। 
বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আশ্রমের সামনের রাস্তার নিয়ন্ত্রণ এখন রাজ্য সরকারের হাতে। রাস্তার দায়িত্ব আমাদের কাছে না থাকলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। দিনের বেলায় ভারী গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধের নির্দেশ আগেই ছিল। সেটিই নতুন করে বোর্ডে তুলে ধরা হয়েছে। তবে ক্যাম্পাস লাগোয়া আবাসিক এলাকায় যাওয়ার জন্য কিছু গাড়ি ঢুকতেই পারে। পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
বিশ্বভারতী সূত্রের দাবি, আশ্রম এলাকার ঐতিহ্য রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পড়ুয়াদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এই বিধিনিষেধ চালু  হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই সেই নির্দেশ মানা হয় না। তাই কড়া নজরদারির দাবি উঠেছে।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ