Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁশ ও দড়িই ভরসা, আজও নেই রেল গেট, ক্ষোভ বাড়ছে কৃষ্ণগঞ্জের তারকনগরে

রেলের কর্মচারী না হয়েও বিগত এক দশকের বেশি এই কাজটাই করে আসছেন তিনি।

বাঁশ ও দড়িই ভরসা,  আজও নেই রেল গেট, ক্ষোভ বাড়ছে কৃষ্ণগঞ্জের তারকনগরে
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণগঞ্জ: দুপুর বারোটার গেদে-রানাঘাট লোকাল কৃষ্ণগঞ্জের তারকনগর হল্ট স্টেশনে ঢোকার খবর হতেই পাশের এক ঘুপচি চায়ের দোকান থেকে বেরিয়ে এলেন বছর ষাটের দীপঙ্কর বিশ্বাস। ছুটে গিয়ে রেলগেট নামিয়ে দিলেন দীপঙ্করবাবু। রেলের কর্মচারী না হয়েও বিগত এক দশকের বেশি এই কাজটাই করে আসছেন তিনি। গেটটাও রেলের তৈরি নয়। এক প্রান্তে বাঁশের তৈরি গেট। অপর প্রান্তেরটা দড়ির। তারকনগর রেলস্টেশনের কাছে ট্রেন এলেই এইভাবে থামানো হয় রাস্তার গাড়ি এবং পথচলতি মানুষদের। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিন থেকে রেলগেট কিংবা লাইন পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে এলেও আজ অবধি সেই দাবি পূরণ হয়নি। মতুয়া অধ্যুষিত তারকনগরে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘও বহুবার কেন্দ্র সরকারের কাছে আবেদন করেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত শিঁকে ছেড়েনি।‌ উল্টে রাতের অন্ধকারে রেললাইন ঘিরে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যদিও গ্রামবাসীরা সেই চেষ্টা আটকে দিয়েছিলেন। তবে এই সমস্যার পাকাপাকি সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে তারকনগরে।‌

Advertisement


নদীয়া জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতে তারকনগর এলাকা। সেখানে স্টেশনের পাশে বাঁশ ও দাড়ির রেলগেট। গেটের পাশেই মতুয়া সংগঠনের বোর্ড ঝোলানো রয়েছে। তাতে রেলগেট পড়ার পর লাইন পারাপার করলে শাস্তি দেওয়ার কথা লেখা রয়েছে। সেই জায়গা দিয়েই দু’ পাড়ের বহু গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ নিত্য যাতায়াত করেন। লাইনের দু’ পাড়ে ফতেহপুর, মারবাকপুর, পেপুলবেড়ি, গাজনা, ঢুপরি, বাথানগাছির মতো বহু গ্রাম। কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক অফিস, কৃষ্ণগঞ্জ থানা, হাসপাতাল, কলেজ যাওয়ার এই একটাই রাস্তা। গ্রামবাসীদের কথায়, এই রাস্তা বন্ধ করে দিলে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে দু’পাড়ের বাসিন্দাদের। ২০১৩ সাল নাগাদ এখানে বাঁশের গেট বসানো হয়েছিল। মাঝে ২০২২ সালে তারকনগর রেলস্টেশনের কাছে এই এলাকায় রেললাইন ঘিরে দেওয়া‌ হয়েছিল। তখন এলাকার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা ব্যাপক আন্দোলন করেছিলেন। শেষপর্যন্ত চাপের মুখে ঘিরে দেওয়া জায়গা খুলে দিয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকে ট্রেন এলে বাঁশ ও দড়ি দিয়েই রাস্তার দু’ দিকে আটকে দেন দীপঙ্করবাবু। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাজার কমিটির তরফ থেকেই এই রেলগেট বানানো হয়েছিল। ১৩ বছর আমি এই কাজ করছি।’
অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের সভাপতি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী দপ্তর ও রেল দপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা বারবার চিঠি দিয়েছি। আগেও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হয়েছে। তারকনগর রেলগেটের উপর বহু মানুষ নির্ভরশীল। তাই এখানে স্থায়ী রেলগেট বা ফ্লাইওভার জরুরি। আমরা দ্রুত সরকারি পদক্ষেপের আশা করছি।
রানাঘাট লোকসভার সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘এইরকম বহু গেট আছে, যেখানে ফ্লাইওভার তৈরির প্রকল্প রেল দপ্তর পাশ করিয়েছে। টাকাও অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণে গাফিলতি করছে। যার ফলে এই কাজ করা যাচ্ছে না। এটা পুরোপুরি রাজ্যের দায়।


কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক তৃণমূল সভাপতি সমীর বিশ্বাস বলেন, মতুয়া মানুষদের দাবিদাওয়া পূরণে কেন্দ্র সরকার কোনওদিনই সদিচ্ছা দেখায়নি। তারকনগর রেল স্টেশনের রেলগেটের দাবি দীর্ঘদিনের। অথচ এখনও সেখানে বাঁশ ও দড়ি দিয়ে রাস্তার দু’ দিকে ঘিরে রাখা হয়। এতেই বোঝা যায় বিজেপি রাজনীতি ছাড়া কিছুই বোঝে‌না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ