Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালুরঘাট হাইস্কুলে নেই উচ্চ মাধ্যমিকের সিট! ১২০ বছরে প্রথমবার, শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য

১২০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র হচ্ছে না বালুরঘাট হাইস্কুলে

বালুরঘাট হাইস্কুলে নেই উচ্চ মাধ্যমিকের সিট! ১২০ বছরে প্রথমবার, শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: ১২০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র হচ্ছে না বালুরঘাট হাইস্কুলে। প্রতিবছর এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আসন পড়লেও এবার পরীক্ষাকেন্দ্রের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে স্কুলের নাম। অথচ রয়েছে শহরের অন্যান্য স্কুলের নাম। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষক মহলে তৈরি হয়েছে হতাশা ও চাপা ক্ষোভ। কেন বালুরঘাট হাইস্কুলকে এবার পরীক্ষাকেন্দ্র করা হল না তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। স্কুলের শিক্ষকরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দ্বারস্থ হলেও তার কারণ জানতে পারছে না। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও নির্বিঘ্নে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও রাজ্যের পালা বদলের পর এই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক সেন্টার থেকে বাদ পড়েছে বালুরঘাট হাই স্কুল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের ডিআই সুজয়কৃষ্ণ মহন্তকে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও তার জবাব মেলেনি। 
হতাশ সুরে বালুরঘাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রীজিৎ সাহা বলেন, বালুরঘাট হাইস্কুলের ১২০ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। স্কুলের ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত পরীক্ষা বা তার আগের কোনো পরীক্ষায় স্কুলের পক্ষ থেকে কোনো ভুল হয় নি। তাহলে কেন এবার এখানে পরীক্ষাকেন্দ্র করা হল না তা আমাদের জানানো হয়নি। এই ঘটনায় আমরা সকলে সত্যিই হতাশ হয়েছি। 
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার বালুরঘাটের সেন্টার সম্পাদক তথা নদীপার এন.সি বয়েজ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শঙ্কর লাহা বলেন, একটি তালিকা এসেছে। সেখানে বালুরঘাট হাইস্কুলের নাম নেই। ওই স্কুলের নাম থাকা উচিত ছিল। তবে কেন নাম নেই বিষয়টি আমি জানি না। কাউন্সিল থেকে বিষয়টি করা হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মধ্যে অন্যতম সুনাম অর্জনকারী বালুরঘাট হাই স্কুল। বালুরঘাট হাই স্কুল এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার হিসাবে বাদ গেলেও বালুরঘাট শহরের অন্যান্য স্কুলগুলির নাম রয়েছে। বালুরঘাট হাইস্কুলের পড়ুয়ারা প্রায় প্রতিবছর রাজ্যের মেধা তালিকায় জায়গা করে নেয়। প্রথম থেকে দশমের মধ্যে একাধিকবার স্থান পেয়েছে এই বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। শুধু তাই নয়, এই স্কুলের বহু প্রাক্তন ও বর্তমান পড়ুয়া পরবর্তীতে শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রশাসন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘ ১২০ বছর ধরে ঐতিহ্য ও সুনামের সঙ্গে চলা এই বিদ্যালয়ে প্রতিবছর নিয়ম মেনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়ে এসেছে। ফলে হঠাৎ করে এবার কেন স্কুলটিকে পরীক্ষাকেন্দ্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে শিক্ষা মহলের একাংশ এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ