৫০০ বছরের ঐতিহ্য ও রহস্যে ঘেরা বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির পুজো
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তারক চক্রবর্তী, জলপাইগুড়ি: যাঁর ইশারায় গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিচালিত হয়, সেই স্বয়ং মা কালীর পায়ে বেড়ি! অবাক করার মতো হলেও জলপাইগুড়ির ঐতিহাসিক বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী কালীমূর্তির পায়ে শিকল পরানো অবস্থায় দেখলে আজও যে কারও চোখ কপালে উঠবে। 

Advertisement

প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই দেবীমূর্তি ও রাজবাড়ির পুজোকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে একাধিক রোমাঞ্চকর লোককথা ও অলৌকিক ইতিহাস। দেবী এখানে চঞ্চলা মানবী রূপে পূজিতা হন। তাই তিনি যাতে রাজবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে না যান, তা নিশ্চিত করতেই মূর্তির পায়ে বেড়ি পরানোর সুপ্রাচীন রীতি রয়েছে। 
রাজবাড়ির কুলপুরোহিত সুব্রত ঘোষাল ওরফে শিবু পূর্বপুরুষদের সূত্র ধরে জানান, দেবী এক জায়গায় স্থির না থেকে চলাফেরা করতেন। অনেকেই দেখেছেন, মা করলা নদীর তীর ধরে গোশালা এলাকার দেবী চৌধুরানী মন্দিরে চলে যাচ্ছেন এবং পরক্ষণেই ফিরে আসছেন। তা থেকেই মায়ের পায়ে শিকল পরানোর ব্যবস্থা হয়। এমনকি দেবী মন্দিরে আসা-যাওয়ার পথে মন্দির প্রাঙ্গণে কেউ শুয়ে থাকলে অলৌকিক ভাবে চড়-চাপড় খাওয়ার ঘটনাও বহুল প্রচলিত। সেই ভয়ে আজও রাতে মন্দির চত্বরে কেউ ঘুমানোর সাহস পান না। 
পুরোহিত শিবু ঘোষাল আরও বলেন, কালীপুজোর দিনে এক ছোট্ট মেয়েকে সম্পূর্ণ সেজেগুজে মন্দির থেকে বেরিয়ে করলা নদীর পাড়ে দেবী চৌধুরানীর কালীপুজোয় দেখা করতে যাওয়ার দৃশ্য অনেকেই দেখেছেন। চঞ্চলা দেবীর এই যাতায়াত বন্ধ করে রাজবাড়িতে ধরে রাখতেই পায়ে বেড়ি পরানোর রীতি চলে আসছে। 
চিরাচরিত প্রথা মেনে অমাবস্যার রাতে তন্ত্রমতে, মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে সারারাত ব্যাপী পুজো হয়। যা শেষ হয় ভোররাতে। পুজোয় মাকে নতুন পোশাকে সজ্জিত করার পাশাপাশি বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। অমাবস্যার রাতে পাঁঠা বলির মাংসের পাশাপাশি থাকে পাঁচ রকমের মাছের পদ, পোলাও, রকমারি মিষ্টান্ন ও ফলমূল। 
রাজবাড়ি সূত্রে খবর, সব নিয়ম মেনে এবারও পুজোর আয়োজন হয়েছে এবং পুজো শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। ইতিহাস ও অলৌকিকতার সাক্ষী এই জাগ্রত দেবীকে দেখতে আজও ভক্তদের ঢল নামে।