Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ডিজিটাল অ্যারেস্টে’ ২ কোটি খোয়ালেন বাগুইআটির বাসিন্দা, রাজস্থান থেকে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

‘ডিজিটাল অ্যারেস্টে’ ২ কোটি খোয়ালেন বাগুইআটির বাসিন্দা, রাজস্থান থেকে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
  • ১২ মে, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘পার্সেলের মাধ্যমে চলছে চোরাকারবার। সেই পার্সেল পুলিস ও কাস্টমসের হাতে এসেছে।’ বাগুইআটির এক বাসিন্দা এক মহিলাকে ভিডিও কল করে হুমকির সুরে এমনটাই জানিয়েছিল খাকি উর্দিধারীরা! তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে বলা হয়, ‘আপনাকে ডিজিস্টাল অ্যারেস্ট করা হয়েছে।’ মুক্তি পেতে গেলে ২ কোটি টাকা দিয়ে রফা করতে হবে বলে বার্তা দেওয়া হয় তাঁকে। পরিস্থিতির ফেরে পড়ে তিনি ওই টাকা দিয়েও দিয়েছিলেন। পরে টের পান, যারা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করেছিল, তারা কেউই আসল পুলিস নয়। তারা সাইবার প্রতারক। প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি। তড়িঘড়ি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মহিলা। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস রাজস্থানের আলোয়ার থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা জানিয়েছে, ধৃতের নাম উমেশ মিনা।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত মহিলার বাড়ি বাগুইআটির কৃষ্ণপুর এলাকায়। তাঁর নামে অবৈধ পার্সেলের কথা শোনার পরই তিনি ভয় পেয়ে যান। তারপর প্রতারকদের ফাঁদে পা দেন। তিন দফায় মোট ১ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা দিয়ে বসেন। তদন্তে উমেশ মিনার নাম উঠে আসে। সে প্রত্যক্ষভাবে এই প্রতারণায় যুক্ত। তাকে গ্রেপ্তার করার পর রাজস্থানের আদালতে পেশ করা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে বিধাননগরে নিয়ে আসা হয়েছে। বিধাননগর আদালত থেকে তাকে পুলিসি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জেরা করে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস। সেই সঙ্গে এই চক্রে যুক্ত বাকিদের খোঁজ চলছে।
বর্তমানে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে অনেকেই পড়ছেন। কিছুদিন আগে বিধাননগরের এক বাসিন্দা এই ফাঁদে পড়ে ১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা দিয়ে ফেলেন। ওই ঘটনায় গুজরাতের সুরাত থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সল্টলেকের এক বৃদ্ধ এই ফাঁদে পা দিয়ে ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা খুইয়েছিলেন। ওই ঘটনায় ঝাড়গ্রামের লালগড় থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারায়ণপুরের এক প্রৌঢ় একইভাবে প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ৮০ লক্ষ টাকা দিয়ে ফেলেছিলেন। ওই ঘটনায়ও রাজস্থান থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ