সংবাদদাতা, বনগাঁ: দুর্গাপুজো হলেও বাগদার প্রধান উৎসব হল কালীপুজো। এ সময় আনন্দে মাতে এখানকার বাসিন্দারা। সেজে ওঠে এলাকা। দু’দিন আগে থেকেই রঙিন আলো জ্বলতে শুরু করে। তৈরি হয় একাধিক চোখ ধাঁধানো প্যান্ডেল। কোথাও সাবেক ঢঙে, কোথাও থিমের প্যান্ডেল তৈরি হয়। কেউ কোনও মন্দিরের আদল ফুটিয়ে তোলে তাদের প্যান্ডেলে। বাগদার উল্লেখযোগ্য পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল, হেলেঞ্চা সবুজ সংঘ, বাগদা পল্লি উন্নয়ন তরুণ সংঘ, হেলেঞ্চা নবারুণ সংঘ, হেলেঞ্চা স্পোর্টিং ক্লাব।
সবুজ সংঘের কালীপুজো এবছর ৩৭ তম বর্ষে পা দিল। এ বছর প্লাস্টিকের বোতল ও প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। পুজো উপলক্ষ্যে প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ক্লাবের সদস্যরা। নবারুণ সংঘের পুজোর এ বছর ৪৭তম বর্ষ। তারা স্বর্ণমন্দিরের আদলে মণ্ডপ করছে। উদ্যোক্তারা জানান, দেড় কুইন্টাল পিতল ব্যবহার করা হয়েছে মণ্ডপ তৈরি করতে। রাজস্থানের জৈন মন্দিরের আদলে মণ্ডপ করছে স্পোর্টিং ক্লাব। এ বছর ৩৭ বছরে পদার্পণ করল তাদের পুজো। প্রতিবছর থিম ও বৈচিত্রে চমক সৃষ্টি করে এই ক্লাব। হেলেঞ্চা বি আর আম্বেদকর স্পোর্টিং ক্লাব বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে মণ্ডপ করছে। বহু দূর থেকে দর্শনার্থীরা বাগদায় আসে পুজো দেখতে। ভিড় হয়। পুজোর সময় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকে বাগদাজুড়ে।
বাগদার পাশাপাশি বনগাঁর চাঁদপাড়া ও ঠাকুরনগরে নজরকাড়া পুজো হয়। জাঁকজমকে কোনও অংশে পিছিয়ে নেই এই এলাকা। আকর্ষণীয় থিমের পাশাপাশি সাবেকিআনার মণ্ডপ গড়ে উঠেছে। চাঁদপাড়ার অন্যতম পুজো কমিটি চাঁদপাড়া চৌরঙ্গী। এবার ৫৭ তম বর্ষ তাদের। এবছর দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। এছাড়া চাঁদপাড়া যুবগোষ্ঠীর পুজো এবছর ৪৯ তম বর্ষে পা দিয়েছে। তাদের থিম চেতনায় রঙিন আলপনা। কালীপুজোয় কালীতীর্থ হয়ে উঠেছে বাগদা ও চাঁদপাড়া।