নয়াদিল্লি, ৩ নভেম্বর: ফের বিতর্কে বাগেশ্বর বাবা। একবার তিনি বাঙালিকে দুর্গাপুজোয় ‘আমিষ’ বক্তব্যে বিতর্কে জড়ান আবার কখনও বলেন ‘তোমাদের কৃষ্ণ বাঁকা’। বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে রামকথা অনুষ্ঠানে এবার রাম-কৃষ্ণের তুলনা করে বসলেন। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী এদিন কৃষ্ণের বাঁশি বাজানো নিয়েও এমন মন্তব্য করেছেন, যে রেগে লাল হয়েছেন ভক্তরা। তিনি বলেন, “তোমাদের ঠাকুরে একটা ছবি দেখ। এদিকে ওদিকে তাকিয়ে থাকেন। তিনি দাঁড়ালেও তিন জায়গায় বেঁকে থাকেন। পায়ের উপর পা করে দাঁড়ান। কোমর বেঁকে থাকে, ঘাড় বেঁকে থাকে। বেঁকে বাঁশি বাজান তিনি। আমাদের ঠাকুর সোজা দাঁড়িয়ে থাকেন।” এছাড়াও তিনি রাম-কৃষ্ণের নাম নিয়েও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের ঠাকুরের নামও সোজা। তোমাদের ঠাকুরের নামও বাঁকা। আমাদের ঠাকুরের ধামও সোজা, অযোধ্যা। তোমাদের ঠাকুরের ধামও বাঁকা, বৃন্দাবন।”
যদিও এই বক্তব্যের পরেই ক্ষমা চেয়েছেন বাগেশ্বর ধামের প্রধান। এর আগে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে মন্তব্যে তাঁকে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়নি। তবে বলেছিলেন, “বক্তব্যের ভুল ব্যাখা দেওয়া হচ্ছে।” এবারও একই কথা বলে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছেন বাগেশ্বর বাবা। সমাজ মাধ্যমে তিনি বলেন, “আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখা দেওয়া হচ্ছে। আমি নিজেও কৃষ্ণের ভক্ত। আমি শ্রীকৃষ্ণের গুনগান গাই। আমি রাম ও কৃষ্ণের মধ্যে কোনো বিভেদ তৈরি করতে চাইনি। রাম ও কৃষ্ণ তো আসলে একই।”
ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর এসব মন্তব্যে বেজায় ক্ষুব্ধ কৃষ্ণভূমি মথুরা-বৃন্দাবন। নিন্দার ঝড় সমাজ মাধ্যমজুড়ে। এর আগে বাঙালির দুর্গাপূজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। দুর্গাপুোজর আগে বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে একটি অনুষ্ঠান থেকে বলে গেলেন, দুর্গাপুজোয় যাঁরা আমিষ খায় তাঁরা নাকি আসলে পাখণ্ডী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় জলঘোলা। সেবারও তাঁর বক্তব্যের নাকি ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলেন জানান তিনি। ক্ষমা চাননি। তবে এবার সরাসরি ভগবান কৃষ্ণকে ‘অপমান’! যা একেবারেই মেনে নিচ্ছেন না ভক্তরা। সমাজ মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যকে নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে। যার ফলে বেশ চাপেই পড়েছেন বাগেশ্বর বাবা। তাই কি এবার তড়িঘড়ি ক্ষমা চেয়ে নিলেন? প্রশ্ন উঠছেই।



