নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিল দেশের জন্য কিছু করার। ইচ্ছাশক্তির উপর ভর করে লক্ষ্যপূরণে ধারাবাহিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বাগদার প্রত্যন্ত গ্রামের অভিষেক সরকার। কলা বিভাগে অনার্স নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এখন আইটিআই’তে পড়ছেন। তাঁর বিজ্ঞান চেতনায় তৈরি পাঁচটি মডেলই পদার্থবিদ্যার উপরে। মিসাইল থেকে লেজার সিকিউরিটি ফায়ারিং সিস্টেম, লেজার সিকিউরিটি সিস্টেম, শক গ্লাভস সহ রোবট কার আজ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এলাকায়। প্রতিটি মডেলই দেশের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা বলে দাবি তাঁর। ভারতীয় সেনার কাছে থাকা মিসাইলের কার্যকারিতা থেকে একেবারে নতুন ভাবনায় মিসাইল তৈরি করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বাগদা ব্লকের রণঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম আউলডাঙা। সেখানেই মা প্রমীলা সরকার ও বাবা অরুণ সরকারকে নিয়ে বসবাস অভিষেকের। কাঁটাতার দেওয়া গ্রামে বিএসএফের নিরাপত্তার ছবি জন্ম থেকেই দেখে আসছেন অভিষেক। বাবা অরুণ কৃষিকাজ করেন, মা সাধারণ গৃহবধূ। আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেই বাগদার বিআর আম্বেদকর শতবার্ষিকী কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। অষ্টম শ্রেণি থেকেই কাঠ, লোহা, বিদ্যুতের সরঞ্জাম নিয়ে বিজ্ঞানের মডেল তৈরি করতেন তিনি। একচিলতে টিনের চালা ঘরে বসে বিজ্ঞানের একের পর এক মডেল তৈরি করতে দিনের বেশিরভাগ সময়টা কাটিয়ে দিয়েছেন। এখন তিনি নদীয়ার বগুলার একটি বেসরকারি ইনস্টিটিউশন থেকে আইটিআই পড়ছেন। কয়েকবছরের চেষ্টায় ইতিমধ্যেই অভিষেক তৈরি করেছেন নতুন ভাবনার একটি মিসাইলের মডেল। নিজের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নামকরণ করেছেন ‘এআর মিসাইল।’ মিসাইল তৈরি কী দিয়ে? উত্তরে অভিষেক বলছেন, ২০ কেজি লোহার পাত দিয়ে এটি তৈরি। যার উচ্চতা সাড়ে ছ’ফুট। এটা তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লেগে গিয়েছে। মিসাইলের ভিতরে অনেক কিছুই থাকে। সেটা তো আমার কাছে নেই। কিন্তু, এগুলি রাখার জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। সরকার চাইলেই এটা নিয়ে ট্রায়াল করা যেতে পারে। সাফল্য মিলবে বলেই মনে করছেন অভিষেক। শুধু কি মিসাইল? না। দেশরক্ষায় একাধিক ইলেকট্রনিক গ্যাজেটও বানিয়েছেন অভিষেক। এআর লেজার সিকিউরিটি ফায়ারিং সিস্টেম বানিয়েছেন তিনি। শত্রু দেশ থেকে কোনও দুষ্কৃতী, জঙ্গি বা পাচারকারী ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে সেক্ষেত্রে অভিষেকের এই মডেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফায়ার করতে সক্ষম। অনেক দূর থেকেই রশ্মির মাধ্যমে কাজ করবে এগুলি। এছাড়াও লেজার সিকিউরিটি সিস্টেম মডেলের মাধ্যমে শত্রুপক্ষ ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলেই সতর্ক করবে(অ্যালার্ম)। ‘এ আর শক’ নামে আরও একটি মডেল তৈরি করেছেন তিনি। শত্রুদেশের দুষ্কৃতীকে এই ‘শক গ্লাভস’বেঁহুশ করে দেবে। কিন্তু যিনি এটা হাতে নিয়ে থাকবেন তাঁর কিছুই হবে না দাবি করেছেন অভিযেক। তাঁর কথায়, সফলভাবে অনেক মডেল বানিয়েছি। কেন্দ্র সরকার যদি এগুলি কাজে লাগায়, তাহলে আমার পরিশ্রম সফল হবে। অন্যদিকে, অভিষেকের বাবা অরুণ সরকার বলেন, ছেলের স্বপ্নপূরণ হোক, এটাই চাই।