নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: টিকিট না পেয়ে দল ছাড়লেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক কাজি আব্দুর রহিম ওরফে দিলু। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি দিয়ে সেকথা জানিয়েও দিয়েছেন তিনি। বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল বিধায়কের দলত্যাগ নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। তাহলে কি তিনি কংগ্রেসে ফিরছেন? এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই তৈরি হয়েছে গুঞ্জন।
বিধায়কের দলত্যাগ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তাহলে কি ফের কংগ্রসে ফিরছেন দিলু। কেউ কেউ একথাও বলছেন, ঘর ওয়াপসি হয়ে কংগ্রেসের টিকিটে প্রার্থী হতে পারেন তিনি। তবে, এনিয়ে একাধিকবার বিধায়ককে ফোন করা হলেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জানা গিয়েছে, এলাকায় কংগ্রেসি পরিবার বলেই পরিচিত দিলুরা। ২০২১ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে টিকিট পান তিনি ও বিধায়ক হন। এবার তাঁকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মোকাদ্দিম ওরফে লিটনকে। এরপরই ‘বিদ্রোহী’ হয়ে ওঠেন তিনি। দলীয় কর্মসূচিতে তাঁকে আর দেখা যায়নি। রবিবার সকালে আচমকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ইস্তফাপত্র পোস্ট করেন তিনি। দীর্ঘ চিঠিতে অভিমানের সঙ্গে তিনি লিখছেন, ‘আমি সবসময় সত্য, ন্যায় এবং আদর্শের পথে চলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে। তা উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বারবার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত।’ এরপরই তিনি লিখেছেন, ‘আমি কখনও আপসের রাজনীতি করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। আমার বাবার আদর্শ আমাকে শিখিয়েছে— অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, সত্যের পথেই অটল থাকা। সেই কারণেই আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলাম। আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব— এটাই আমার অঙ্গীকার।’ বিদায়ী বিধায়ক আরও লিখেছেন, ‘২০২১ সালের কঠিন সময়ে যে সব কর্মী, ভাইরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দলকে জয়ী করেছিলেন, তাঁদের প্রাপ্য সম্মান তো দূরের কথা, পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, যাঁরা সেই সময়ে দলের বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদের টিকিট দেওয়া হয়েছিল। অবিচার ও বৈপরীত্য আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। সমস্ত অন্যায় ও দলবিরোধী কার্যকলাপ সম্পর্কে বারংবার উচ্চ নেতৃত্বকে জানানো সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং অন্যায়কারীরাই বারবার প্রাধান্য পেয়েছেন। বাদুড়িয়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক কাজি আব্দুর রহিম ওরফে দিলু। নিজস্ব চিত্র।