সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ির খাগড়াবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প বানানো হয়েছে। কিন্তু গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের একেবারে কাছে প্রকল্পস্থলটি। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে দাবি করে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে প্রসূতি ও শিশুরা আসা বন্ধ করে দিয়েছে। প্রকল্পস্থল থেকে আসা কটূ গন্ধে বিরক্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীরাও। ব্লক প্রশাসন ও গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। যদিও ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর দাবি, গন্ধ আসার কথা নয়। তাও খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
খাগড়াবাড়ি-২ পঞ্চায়েতের বসাকপাড়ায় এসডব্লুএম প্রজেক্ট করা হয়েছে। লোকালয়ে প্রকল্পটি করায় এখন সমস্যার পড়ছেন গ্রামবাসীরা। বসাকপাড়ার বাসিন্দা খুকিরানি মোদক বলেন, স্বামী তিনবছর ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। এমনিতেই তিনি অসুস্থ, তারউপর এত গন্ধে উনি খেতে পারছেন না। আমরা সকলেই কমবেশি অসুস্থ বোধ করছি। আর এক বাসিন্দা শম্পা মোদক বলেন, দুর্গন্ধের টেকা যায় না। কিছু বলতে গেলেই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের হুমকির মুখে পড়তে হয়। গণেশ মোদক নামে আরএকজন বলেন, সারাদিনই মশা, মাছির উপদ্রব। সামনেই একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আছে। গন্ধের জন্য সেখানে শিশুরা যায় না। আমরা যেকোনও সময় কঠিন কোনও রোগে আক্রান্ত হব, এই আশঙ্কায় রয়েছি।
স্থানীয়রা বলেন, আমাদের জানানো হয়েছিল প্রকল্পস্থলে জৈবসার তৈরি হবে। এখন দেখা যাচ্ছে শুধু বর্জ্যপদার্থ নিয়ে আসা হচ্ছে। শহর এলাকার বর্জ্য আনা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে থাকাই যাচ্ছে না। এটা ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকা পিঙ্কি রায় বলেন, দুর্গন্ধের জন্য অভিভাবকরা সন্তানদের পাঠাচ্ছেন না। আমাদেরও দমবন্ধ হয় যায়। যে কি অবস্থা হচ্ছে শুধু আমরাই জানি।
যদিও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তৃণমূল কংগ্রেসের বাবলু রায় বলেন, প্রকল্পটি সঠিক দিশাতেই চলছে। সেকারণে বিরোধীদের ঈর্ষা হচ্ছে। ওরা লোকজনকে খেপিয়ে দিয়ে উল্টোপাল্টা কথা বলাচ্ছে। আমি কাউকেই হুমকি দিইনি। ময়নাগুড়ি বিধানসভার কেন্দ্রের বিজেপির আহ্বায়ক রথীন আচার্য বলেন, প্রশাসনকে গ্রামবাসীরা জানানোর পরেও তারা নিশ্চুপ। বাসিন্দারা মন্ত্রীকে জানানোর জন্য প্রধানের উপর ভরসা করলেও তাঁদের উনি আটকে দিয়েছেন। আমরা গ্রামবাসীদের পাশে আছি। আন্দোলনে নামব। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই প্রকল্পস্থল ঘুরে দেখেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার।
তিনি আসার আগে গ্রামবাসীরা চাইছিলেন এই সমস্যা তাঁকে জানানো হোক। সেই সময় খাগড়াবাড়ি-২ পঞ্চায়েতের প্রধান গ্রামবাসীদের কিছু না বলার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।