Bartaman Logo
২৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ি: শহরের ঐতিহ্যবাহী দুলাল দিঘি এখন যেন ডাম্পিং গ্রাউন্ড, ভরেছে কচুবনে

শহরের ঐতিহ্যবাহী দুলাল দিঘি এখন অঘোষিত ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’। সংস্কারের অভাবে ভরেছে কচুবনে। এক সময় জলপাইগুড়ি শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত দুলাল দিঘির জল ছিল কাচের মতো স্বচ্ছ।

জলপাইগুড়ি: শহরের ঐতিহ্যবাহী দুলাল দিঘি এখন যেন ডাম্পিং গ্রাউন্ড, ভরেছে কচুবনে
  • ৩০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শহরের ঐতিহ্যবাহী দুলাল দিঘি এখন অঘোষিত ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’। সংস্কারের অভাবে ভরেছে কচুবনে। এক সময় জলপাইগুড়ি শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত দুলাল দিঘির জল ছিল কাচের মতো স্বচ্ছ। পুজো-পার্বণে ব্যবহার হতো ওই দিঘির জল। শীত পড়তেই ভিড় করত পরিযায়ী পাখির দল। কিন্তু এখন আবর্জনা আর জঙ্গলে ভরেছে গোটা দিঘি। মশা-মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ আশপাশের মানুষজন।

Advertisement

একই অবস্থা ১২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত জলপাইগুড়ি হাইস্কুলের বিশাল পুকুরের। অথচ এই চত্বরে ১৯৩৯ সালে সভা করে গিয়েছেন দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। সেই অর্থে এলাকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক জানা-অজানা ইতিহাস। কিন্তু আজ জলপাইগুড়ি হাইস্কুলের পুকুর কার্যত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এনিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে শহরবাসীর।
জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুলাল দিঘি ও জলপাইগুড়ি হাইস্কুলের পুকুর সংস্কারের জন্য ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট হাতে এসেছে। এবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পুরদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ছাড়পত্র মিললেই কাজ শুরু হবে। 
যদিও বাসিন্দাদের বক্তব্য, দুলাল দিঘি ও হাইস্কুলের পুকুর সংস্কার হবে, এমনটা অনেকদিন ধরেই শুনে আসছি। সুতরাং কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বিশ্বাস নেই। দুলাল দিঘির পাশেই বাস কৃষ্ণা রায় বর্মনের। তিনি বলেন, আগে দিঘিতে এলাকার মানুষ স্নান করতেন। পুজো পার্বণে এই দিঘির জল ব্যবহার হতো। শীতে আসত প্রচুর পাখি। কিন্তু এখন তো দিঘির অস্তিত্বই আর নেই।
এদিকে, বাম আমলে একবার চার লক্ষ টাকা ব্যয়ে জলপাইগুড়ি হাইস্কুলের পুকুর সংস্কার করে পাড় বাঁধানো হয়েছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেই পুকুর কার্যত ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, সংস্কার করে পুকুরের হাল ফেরানোর জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়েছি। শুনেছি পুরসভা এব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু তা কবে হবে বলতে পারব না। আমাদের স্কুলের পুকুরপাড়েই সভা করে গিয়েছেন নেতাজি। সেই হিসেবে জায়গাটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। তাছাড়া স্কুলের সামনেই পুকুর। সেটি সংস্কার না হওয়ায় দৃশ্যদূষণের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। 
 নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ