নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারের বাবুরহাট দুর্গাপুজো কমিটির পুজোর এবার ৭৫ বছর। এদের এবারে থিম ‘নতুনের মাঝে পুরাতন শিল্প থাকুক চিরন্তন’। পুজোর বাজেট ৬০ লক্ষ টাকা। প্রায় ৬০ ফুট উঁচু এবং ১০০ ফুট চওড়া পুজো মণ্ডপটি কাল্পনিক। মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে বাঁশ এবং পাট দিয়ে অপূর্ব কারুকাজ করছেন নবদ্বীপের শিল্পীরা। ১৫ জন শিল্পী তিন মাস ধরে মণ্ডপসজ্জার কাজে হাত দিয়েছেন।
বাঁশের বিভিন্ন মডেল ও পাটের পুতুল দিয়ে গোটা মণ্ডপটি সাজানো হচ্ছে। মণ্ডপের সঙ্গে সাযুজ্য বজায় রেখে প্রতিমাও বানানো হচ্ছে। খাগড়াবাড়ির মৃতশিল্পী বাপি পাল প্রতিমা বানাচ্ছেন। মাটির প্রতিমায় থাকছে ডাকেরসাজ। এখানকার আলোকসজ্জাও এবার নবদ্বীপের। রাস্তায় দু’টি বড়মাপের গেট, ১৭টি মাঝারি গেট থাকছে। ১১টি কল্কা সহ আরও নানা ধরনের আলোকসজ্জায় চারপাশ সাজিয়ে তোলা হবে।
বাবুরহাট দুর্গাপুজো কমিটির সভাপতি রাজু রায় বলেন, আমাদের চারপাশ থেকে পুরনো অনেক শিল্পই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। সেসব শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে আমাদেরই। নতুন সব কিছুর মাঝে তাদেরও রক্ষা করা দরকার। আগে পাটের পুতুল, বাঁশের শিল্প জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যশালী ছিল। কিন্তু এখন নানা আধুনিকতার চাপে সেসব আমাদের চারপাশ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই আমরা চাইছি, নতুনের পাশাপাশি এসব শিল্পকেও বাঁচিয়ে রাখতে। তারই বার্তা দিতে এমন থিম বাছাই করেছি আমরা। আশা করছি, দর্শনার্থীদের এই কারুকাজ ভালো লাগবে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়ালি আমাদের পুজোর উদ্বোধন করার কথা।
কোচবিহার শহরের এবারের বিগ বাজেটের পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম বাবুরহাটের পুজো। বাঁশ ব্যবহার করে মূল মণ্ডপটি গড়ে তোলা হচ্ছে। তার ভিতর ও বাইরের অংশের কারুকার্য করা বাঁশ, পাট, পাটকাঠি দিয়ে। তার উপরে পড়বে আলো। সব মিলিয়ে অপূর্ব সৌন্দর্য ফুটে উঠবে, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। নিজস্ব চিত্র।