নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন... উই আর নর্থইস্ট।’ স্লোগানে তখন কাঁপছে যুবভারতী। ট্রফি হাতে সেলিব্রেশনে মত্ত আলেদাইনরা। কর্ণধার জন আব্রাহামও ফুটবলারদের আবেগে গা ভাসিয়েছেন। তার ফাঁকেই ম্যাচের নায়ককে ধরা হল। টানা দ্বিতীয়বার ডুরান্ড জয়ের অনুভূতিটা কেমন? প্রশ্নটা শুনতেই হাজার ওয়াটের হাসি খেলে গেল আজারেইর চোখেমুখে। তাঁর জবাব, ‘আমায় দেখে কী মনে হচ্ছে?’ তারপরই বিজয়ী মেডেলটা দাঁতে চেপে ধরতে দেখা গেল তাঁকে। সামান্য থেমে বললেন, ‘দারুণ অনুভূতি। পরপর দু’বার এই ঐতিহ্যশালী ট্রফি জয় মুখের কথা নয়। কৃতিত্ব পুরো টিমের। এমন মূহূর্তের জন্য উপরওয়ালাকে ধন্যবাদ। পাশাপাশি এই জয় আমার পরিবার ও সমর্থকদের উত্সর্গ করতে চাই।’
ডুরান্ড ফাইনালে আলেদাইন আজারেই ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন। টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বল, গোল্ডেন বুট— দুই পুরস্কারই তাঁর দখলে। আলেদাইনের সংযোজন, ‘গতবার মোহন বাগানকেও এই মাঠেই হারিয়েছিলাম। তাই যুবভারতী আমার কাছে অত্যন্ত পয়া স্টেডিয়াম।’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বাংলার টিমকে ফাইনালে হারানোটা কি অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন? হেসে মরক্কান ফরোয়ার্ডের উত্তর, ‘আরে, ফাইনাল জেতাই তো লক্ষ্য। বারবার কলকাতার টিম প্রতিপক্ষ হলে আমরা কী করতে পারি?’
ডায়মন্ডহারবারের কোচ কিবু ভিকুনাও আলেদাইনকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, ‘ও একাই ব্যবধান গড়ে দিল। অসাধারণ প্লেয়ার। এবং অসাধারণ টিমম্যান।’ আর দলের হারের প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘এতটা খারাপ ফল হবে ভাবিনি। তবে প্লেয়ারদের জন্য আমি গর্বিত।’ নর্থইস্ট কোচ বেনালির মুখেও শোনা গেল আজারেইর বন্দনা। পাশাপাশি কর্ণধার জন অব্রাহামকেও কৃতিত্ব দিলেন তিনি।
ডায়মন্ডহারবার এফসি: মিরশাদ, অজিথ (নরেশ), রুয়াতকিমা, কোর্তাজার, রবিলাল, লিয়ানসাঙ্গা, পল, স্যামুয়েল (নরহরি), জবি (থারপুইয়া), গিরিক (ব্রাইস), লুকা।
নর্থইস্ট: গুরমিত, রিডিম (দীনেশ), আশির, জাবাকো, সামতে, মুথু, অ্যান্ডি, নুনেজ (জাইরো), থই (জিতিন), আজারেই (ড্যানি), পার্থিব (ম্যাকার্টন)।