Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

আওয়ামি লিগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে, শাহবাগে অবরোধ আন্দোলনকারীদের

আওয়ামি লিগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে, শাহবাগে অবরোধ আন্দোলনকারীদের
  • ১২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: আওয়ামি লিগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে ঢাকার শাহবাগে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে আহতরা। শনিবার রাতে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামি লিগের উপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ সভার পর বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামি লিগ ও তার নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন করতে পারবে না দলটি। যদিও এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে আওয়ামি লিগ। রবিবার তারা জানিয়েছে, ‘ফ্যাসিস্ট’ ইউনুস সরকারের সিদ্ধান্ত তারা মানছে না। বাধা সত্ত্বেও তারা রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাবে। দলের তরফে বলা হয়েছে, আওয়ামি লিগের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছিল। আর এখন মানুষের রায় না নিয়েই ক্ষমতায় আসা অগণতান্ত্রিক সরকার স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করছে।

Advertisement

শেখ হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ করার জন্য গত কয়েকদিন ধরেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামাত-ই-ইসলামির মতো দলগুলি আন্দোলনে নেমেছিল। ঘোষণার পরেই ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ একাধিক জায়গায় মিছিল-শোভাযাত্রা বের করে আওয়ামি বিরোধী দলগুলি। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে খুশি নয় হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে আহতরা। তাঁদের দাবি, আওয়ামি লিগকে দল হিসেবে স্থায়ী নিষিদ্ধ করতে হবে। আহতদের চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে। অবরোধের জেরে এদিনও শাহবাগে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
যে পদ্ধতিতে আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস জানিয়েছিলেন, হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনা তাঁদের নেই। তবে জনগণ চাইলে এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু হঠাত্ জামাত ও ‘বৈষম্যবিরোধী পড়ুয়া’রা আন্দোলন শুরু করতেই সেই অবস্থান থেকে সরে আসে ইউনুস সরকার। শাহবাগে অবস্থানের সময় আন্দোলনকারীদের উপর ঠান্ডা জল স্প্রে করা হয়েছে ও সরকারের তরফে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাতে অভিযোগ উঠেছে, সরকারই পরোক্ষে আওয়ামি লিগ বিরোধী আন্দোলনে মদত দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিএনপি যেভাবে সাধারণ নির্বাচনের জন্য চাপ তৈরি করতে শুরু করেছিল, তাতে তাদের চাপে রাখতেই আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটল ইউনুস সরকার। খালেদা জিয়ার দলকে বুঝিয়ে দেওয়া হল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ছাত্র-সমন্বয়করা যা বলবেন ও যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই সব কিছু হবে। 
যদিও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দমন-পীড়নের মাধ্যমে আওয়ামি লিগ নিজেদের রাজনীতির মৃত্যু ঘটিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামি লিগের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন। কিছুদিন আগেও অবশ্য বিএনপি জানিয়েছিল, তারা আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ