শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: ‘এই ছবিটা ভালো হয়নি। আর একবার তোলো!’ পুজো প্যান্ডেলের সামনে দাঁড়িয়ে প্রেমিকার আবদার। হাতে মোবাইল, ক্যামেরার ফ্রেমে দু’জনকে ঠিকঠাক ধরার চেষ্টা করছে প্রেমিক। একবার হাসি। একবার অন্য ভঙ্গি। তারপর ছবি দেখে আবার নতুন করে দাঁড়ানো। পিছনে তখন দর্শনার্থীদের লম্বা লাইন, সামনে দুর্গাপ্রতিমা। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের জন্য যেন চারপাশের ব্যস্ততা ভুলে নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে ব্যস্ত দু’জন। সপ্তমীর প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি এমন ছোটো ছোটো মুহূর্ত দেখা গিয়েছে।
বারাসতের সোহম আর সহেলি। তাঁদের পরিকল্পনা, সপ্তমীর সকাল থেকেই একের পর এক পুজো প্যান্ডেল ঘুরে দেখা। কোন মণ্ডপে আগে যাবে, কোথায় ছবি তুলবে, কোথায় কিছু খেয়ে নেওয়া যাবে– সব নিয়ে আগেই আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পুজোর রাস্তায় বেরিয়ে পরিকল্পনা আর বাস্তবের মধ্যে ফারাক থাকেই। কোথাও মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, কোথাও পছন্দের কোণ থেকে ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা। কখনও আবার একটি মণ্ডপের সাজ দেখতে দেখতেই কেটে যাচ্ছে অনেকটা সময়। তবু তাড়া যেন একটাই– দিনটা যতটা সম্ভব একসঙ্গে কাটানো।
বারাসত থেকে মধ্যমগ্রাম, হাবড়া থেকে অশোকনগর– সপ্তমীর সকাল গড়িয়ে বিকাল হতেই পুজো প্যান্ডেলগুলিতে বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। নতুন পোশাকে সেজে পরিবার, বন্ধুদের দল আর প্রেমিক-প্রেমিকারা বেরিয়ে পড়েছেন ঠাকুর দেখতে। কোথাও আলোর ঝলকানি, কোথাও নজরকাড়া মণ্ডপসজ্জা, কোথাও প্রতিমা দর্শনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা। এই ব্যস্ততার মধ্যেই নিজেদের মতো করে জায়গা করে নিচ্ছেন প্রেমিক-প্রেমিকারা। তাঁদের কাছে পুজো ঘোরা শুধু একটি মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে পৌঁছে যাওয়া নয়, বরং কোনো প্যান্ডেলের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি, কোথাও প্রতিমার সঙ্গে ছবি, আবার কোথাও মণ্ডপের আলোর সামনে একটু সময় নিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা। ছবি তোলার পর ফোনের পর্দায় দু’জনের মুখ পাশাপাশি দেখে হাসি। ছবি পছন্দ না হলে আবার নতুন করে তোলা– এই ছোটো ছোটো মুহূর্তের মধ্যে ফুটে ওঠে সম্পর্কের পরিচিত ছন্দ।
বেলা যত গড়িয়েছে ততই মানুষের ভিড় বেড়েছে। প্যান্ডেল হপিংয়ের সঙ্গে জুড়ে থাকে খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনাও। রাস্তার ধারে পছন্দের খাবারের দোকান দেখলে কিছুক্ষণ থেমে যাওয়া। কিছু মুখে তুলে তারপর আবার পরের মণ্ডপের জন্য হাঁটা। কোথাও ক্লান্ত পায়ে একটু বিশ্রাম, কোথাও পরের গন্তব্য নিয়ে আলোচনা। পুজোর ভিড়ে অনেক সময় পাশাপাশি হাঁটাও সহজ হয় না। তবু সেই ভিড় সামলে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই যেন আলাদা আনন্দ খুঁজে নেন তাঁরা।
এদিকে, দুপুর গড়িয়ে বিকাল নামতে শুরু করে। প্যান্ডেলের আলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে।



