


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রার্থী পাড়ায় আসছেন প্রচারে। পাঁচ মাথার মোড়ে সভাও করবেন। দু’দিন আগে থেকে শুরু হবে জনসভার প্রচার। অন্য কোনো ভোটের সময় হলে এসব নিয়ে দু’বার ভাবতে হত না রাজনৈতিক কর্মীদের। দরকার শুধু একটি অটো ভাড়া করা। মাথায় লাগানো হবে লাউডস্পিকার। দলের উৎসাহী কোনো কর্মী সেই অটোয় চেপে মাইক প্রচার শুরু করে দেবেন। শহরাঞ্চল হোক বা পঞ্চায়েত এলাকা—ভোটবাজারে এ চিত্র খুবই স্বাভাবিক। তবে এবার পরিস্থিতি কিছু আলাদা! কারণ, গ্যাসের সংকটে প্রচারের জন্য অটো পাওয়াই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। তা বলে তো প্রচার বন্ধ রাখা যায় না! তাই এই পরিস্থিতিতে গ্যাসচালিত অটোর স্বার্থক বিকল্প হয়ে উঠেছে ব্যাটারি চালিত টোটো। অলিগলিতে বিভিন্ন দলের প্রার্থীর রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হোক বা সভা-সমিতির প্রচার, প্রার্থী ও প্রতীকের সঙ্গে ভোটারের পরিচয় করিয়ে দেওয়া—সব ক্ষেত্রেই এবার অটোর অভাব মেটাচ্ছে টোটো। হাওড়া থেকে হলদিয়া, কামারহাটি থেকে কৃষ্ণনগর—এবার ভোটপ্রচারে টোটোর ব্যবহার সর্বত্র বেড়েছে।
কী বলছেন অটো চালকরা? সকাল ৮টায় লাইন দিলে বিকাল ৫টায় গ্যাস পাচ্ছেন তাঁরা। বিভিন্ন রুটে এমনিতে অটোর সংখ্যা কমে গিয়েছে। তাই চালকরা বলছেন, যেখানে নিত্যদিনের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না, সেখানে প্রচারের জন্য ভাড়া খাটা তো ভাবাই যায় না। হাওড়ার শিবপুর এলাকার অটোচালক মুন্না সিং বলছিলেন, ‘ভোটের সময় প্রতিবার আমাদের কিছু বাড়তি উপার্জন হয়। কারণ, প্রচারের জন্য কোনো না কোনো দল অটো ভাড়া নেয়। এবার তার কোনো সুযোগ নেই। সবদিন গাড়ি রুটে নামাতেই পারছি না। প্রচারে সব তো দেখছি এবার টোটো ভাড়া নিচ্ছে।’ কলকাতার অদূরে মধ্যমগ্রাম। এই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী রথীন ঘোষ বললেন, ‘এখন গ্যাসের সংকটে অটো পাওয়া দায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রচারের জন্য টোটোর চাহিদা অনেকটা বেড়েছে।’
হুগলির শ্রীরামপুরের টোটোচালক সনাতন মিস্ত্রির কথায়, ‘প্রচারে গেলে ঘণ্টা পিছু ১০০ টাকা করে পাচ্ছি। শুধু মাইক বেঁধে দিচ্ছে আর পোস্টার-ফ্ল্যাগ লাগিয়ে দিচ্ছে। আমরা শুধু পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছি। আগে থেকে রেকর্ড করা অডিও চলছে। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে দু’-তিন দিন প্রচারের জন্য টোটো ভাড়া নিচ্ছে কেউ না কেউ। একদিনে চার-পাঁচ ঘণ্টা ঘুরতে হচ্ছে। বাকি সময় অন্যান্য দিনের মতোই গাড়ি চালাচ্ছি।’