নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: সোনারপুরের বর্ণালী মল্লিক। অশীতিপর এই বৃদ্ধা বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন। তবুও প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁর ঠাকুর দেখার প্রতি উৎসাহে কোনো খামতি ছিল না। সপ্তমীর সকালে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে টোটোতে করে পাড়ার ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েছিলেন। তবে শুধু পাড়ার নয়, নরেন্দ্রপুর, বারুইপুরের বড় বড় ঠাকুর দেখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। বর্ণালীদেবীর মত এদিন এমন অনেক বৃদ্ধ, বৃদ্ধাকেই সকাল সকাল পুজো পরিক্রমা করতে রাস্তায় দেখা গিয়েছে। কারোর হাতে ছিল লাঠি, কেউ বা পরিবারের সদস্যকেই লাঠি করে বেরিয়ে পড়েছেন। কারণ একটাই। দুপুরের পর থেকে অধিকাংশ জায়গায় টোটো, অটো বন্ধ হয়ে যাবে। অনেক রাস্তায় আবার রিকশ পর্যন্ত চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে, বয়সের ভারে ভিড়ের মধ্যে হেঁটে ঠাকুর দেখার মতো শক্তি নেই তাঁদের। তবে মনে ইচ্ছা রয়েছে পুরো। তাই প্রথম সপ্তমীতেই মণ্ডপে মণ্ডপে প্রবীণদের ঠাকুর দেখার প্রবণতা ভালোই চোখে পড়ল।
এদিকে, জেলার মধ্যে একাধিক বড় পুজো রয়েছে। তবে বিশেষ নজর কেড়েছে নরেন্দ্রপুরের রামচন্দ্রপুর তরুণ সংঘের পুজো। তাঁরা এবার নারী নির্যাতনকে থিম হিসাবে তুলে ধরেছে। যেভাবে গোটা বিষয়টিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সেটা দেখেই যেন চোখ আটকে যাচ্ছে দর্শনার্থীদের। মণ্ডপে প্রবেশ করলে সহজে বেরচ্ছেন না অনেকে। কীভাবে নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে লাঞ্ছিত হচ্ছেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলাদের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি– এসবই নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছে পুজো কমিটি। সেসব দেখতেই যেন অনেকে ভিড় করছেন মণ্ডপের ভিতরে। রক্ষীদের সেটা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দর্শনার্থীরা বলছেন, বাস্তবকে যেভাবে ভাবনায় পরিণত করা হয়েছে, সেটা প্রশংসনীয়।
এদিকে, ষষ্ঠীর মতো এদিনও মেঘ-রোদ্দুরের খেলায় দিনের বেলায় বিভিন্ন মণ্ডপে তুলনামুলক ভিড় ছিল কম। সূর্য অস্তমিত যেতেই রাস্তাঘাটে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করে। বারুইপুরে বাইকের দাপটে রাস্তায় যানজট হয়। হেঁটে যাওয়ার মতো জায়গাও না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বহু দর্শনার্থী। এই ছবি দেখা যায় পদ্মপুকুর ইয়ুথ ক্লাব, শাসন বালক সংঘ সহ একাধিক মণ্ডপের সামনে। তবে ঠাকুর দেখায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটে ভাঙড়ে। এদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন দর্শনার্থীরা। আশ্রয় নেওয়ার জন্য এদিক ওদিক ছোটাছুটি লেগে যায় তাঁদের মধ্যে। ডায়মন্ডহারবারেও সকালে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হয়েছে। তাতে অবশ্য সমস্যায় পড়েনি উৎসবমুখর মানুষ। নিজস্ব চিত্র



