নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: কর্মীর অভাবে রাইপুর গ্রামীণ হাসপাতালে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে দেরি হচ্ছে। দিনের পর দিন হাসপাতালে গিয়েও উপভোক্তাদের ফিরে আসতে হচ্ছে। জুতোর সুখতলা খুইয়েও অনেকে হাতে শংসাপত্র পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে ‘দুঃখপ্রকাশ’ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। কর্মী ঘাটতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শংসাপত্র দেওয়া যাচ্ছে না বলে গ্রামীণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে কর্মীঘাটতি ও সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা স্বীকার করে নেওয়ার নজির সচরাচর সরকারি অফিস কাছারিতে দেখা যায় না। অনেকেই সাধারণ মানুষের হয়রানির বিষয়টিকে আমল দেন না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। ফলে রাইপুর গ্রামীণ হাসপাতালের দুঃখপ্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি নিয়ে বাঁকুড়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এনিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের পাশাপাশি জেলার প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাইপুরের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন ও মেসেজ করা হলেও এব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বাঁকুড়া স্বাস্থ্য জেলার সিএমওএইচ শ্যামল সোরেন বলেন, ভালো জায়গায় সুযোগ পাওয়ার কারণে অনেকেই চাকরিতে পদত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। তারফলে বহু পদ ফাঁক পড়ে রয়েছে। এক জায়গার শূন্যপদে অন্য জায়গা থেকে লোক দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে রাইপুরের বিএমওএইচের সঙ্গে কথা বলব। রাইপুরের বাসিন্দা অরবিন্দ দাস চক্রবর্তী বলেন, আমার ভাই অমলেন্দু গত ৭ জুলাই ওই গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ১৫ দিন পর হাসপাতালে গিয়ে ভাইয়ের মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য আবেদন করি। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত তা হাতে পাইনি। হাসপাতালে গিয়ে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছি। কর্মী নেই বলে কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে। শংসাপত্র না পাওয়ার ফলে অনেক কাজ আটকে আছে। আমি ভোগান্তির কথা জানিয়ে রাইপুর ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। অবিলম্বে প্রশাসন সমস্যা মেটাতে ব্যবস্থা নিলে ভালো হয়। রাইপুর ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, দ্রুততার সঙ্গে শংসাপত্র বিলির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, শিশুর জন্মের পর সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে শংসাপত্র দেওয়া হয়। মৃত্যুর পর নিকটাত্মীয়ের হাতেও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। দু’টি ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যরা ওই শংসাপত্র নিয়ে পরবর্তী কাজকর্ম সারেন। - নিজস্ব চিত্র



