


সুকান্ত বসু, কলকাতা: চৈতন্যদেবের সময়কার নানা দুষ্প্রাপ্য পুঁথি, তাঁর হাতের লেখা, বাংলার টেরাকোটা মন্দিরের ভাস্কর্য, প্রাচীন ছাপা মেশিন, পালকি, শ্রীহট্টে মহাপ্রভূর পৈতৃক ভিটের ইট, ইত্যাদি প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রীকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলে ধরতে উদ্যোগী হল বাগবাজার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। উত্তর কলকাতার বাগবাজারের কালীপ্রসাদ চক্রবর্তী স্ট্রিটে গৌড়ীয় মিশনের উদ্যোগে চলা এই মিউজিয়ামে সাজানো রয়েছে ওইসব অতি মূল্যবান সামগ্রী। মায়াবি আলোয় অন্য রূপ পেয়েছে এই মিউজিয়াম। সাধারণ মানুষ যাতে এইসব জিনিস আরও ভালো করে চাক্ষুষ করতে পারেন, তার জন্য প্রতিটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে সেই সামগ্রীর ইতিবৃত্ত। ঠিক হয়েছে, গাইডের সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি গ্যালারির পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস যাতে বই আকারে বিভিন্ন ভাষায় প্রতিটি তলে থাকে, সেই বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এখন মাসে পাঁচশোর উপর দর্শক আসেন মিউজিয়াম দেখতে। চৈতন্যদেবের জীবন‑কাহিনিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ, জানিয়েছেন মিশনের সম্পাদক বি পি পুরী মহারাজ। তাঁর বক্তব্য, এই মিউজিয়ামে এমন কিছু দ্রষ্টব্য আছে, যার গুরুত্ব অসীম। প্রাক-চৈতন্য যুগ, চৈতন্য যুগ এবং চৈতন্য উত্তর যুগের বহু তথ্য, ছবি ও লেখা রয়েছে মিউজিয়ামে।
মিউজিয়ামের একতলায় রয়েছে চৈতন্যদেবের মানবলীলা, প্রেমদান লীলা ও স্মরণকক্ষ। বিভিন্ন মডেলের মাধ্যমে তা তুলে ধরা হয়েছে। দোতলায় আছে মহাপ্রভুর জীব উদ্ধার লীলা, চৈতন্যদেব ও তাঁর পার্ষদদের ছবি ও মডেল। কিছু ক্ষেত্রে তার বিবরণ লেখায় ও রেখায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তিনতলায় রয়েছে বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও শ্রীচৈতন্য দর্শন কক্ষ। আছে শ্রীল ভক্তিবিনোদ কক্ষ। সেখানে চৈতন্যদেব ও সমসাময়িক বিষয়। আছে সেই সময়কার নানা স্থাপত্য‑ভাস্কর্যের নমুনা। আছে ভক্তিবিনোদের ব্যবহার করা নানা জিনিস। চতুর্থতলে আছে শ্রীল প্রভুপাদ কক্ষ এবং প্রেক্ষাগৃহ। সেখানে রয়েছে বহু প্রাচীন ধর্মীয় বই, প্রাচীন ছাপার যন্ত্রপাতি, দুষ্প্রাপ্য মুদ্রা, নানা সাধকের ছবি। চৈতন্যদেব পদব্রজে দেশের ১০৮টি স্থানে ভ্রমণ করেছেন। সেই মানচিত্রও ঠাঁই পেয়েছে এখানে। মিউজিয়ামের প্রতিটি দেওয়ালে পোড়ামাটির কাজ। তাতে রয়েছে চৈতন্যদেব ও তাঁর সময়ের নানা ইতিহাস। এছাড়াও চৈতন্যদেব যে সব পীঠস্থানে গিয়েছিলেন, হাতে আঁকা সেই ছবি এখানকার একটি বাড়তি সম্পদ। সহকারী ইনচার্জ সুরবন্ধু দাস বলেন, ‘এই সংগ্রহশালা চৈতন্য গবেষকদের প্রভূত কাজে লাগবে। সেকারণেই চৈতন্যদেবের নানা পথ ও মতকে সাধ্যমতো তুলে ধরা হয়েছে এখানে।’