সুজয় মণ্ডল, বসিরহাট; দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বুধবার বসিরহাট মহাকুমায় সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দু-একটি ঘটনা ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভোট হল। বসিরহাট উত্তর বিধানসভা এলাকার ধান্যকুড়িয়া গ্রামের জমিদার বাড়ির সদস্যদের অধিকাংশ কর্মসূত্রে প্রবাসী হলেও জন্মসূত্রে তাঁরা এখানকার নাগরিক। তাঁরাও অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা থেকে ভোটদান করতে চলে এসেছেন। তাঁদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারত আর সেই গণতন্ত্রের মহা উৎসব নির্বাচন। সেই উৎসবে অংশগ্রহণের টান ছাড়াও ভোট না দিলে এসআইআর-এ নাম বাদ পড়ার একটা আশঙ্কাও রয়েছে। তাই অন্য সময় দুর্গাপুজোয় বাড়িতে এলেও এবার নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁরা ‘স্পেশাল গ্রাউন্ডে’ ছুটি নিয়েছেন।
হিঙ্গলগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী ঈপ্সিতা মণ্ডল এদিন প্রথম ভোট দিলেন। তাই একটু বেশিই উত্তেজিত দেখা গেল তাঁকে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী শহর টাকিতে এদিন ইছামতী তীরবর্তী এলাকায় বিএসএফ-এর বাড়তি নজরদারি লক্ষ করা যায়। নির্বাচন কমিশনের তরফে সকল গেস্ট হাউস ও হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় দোকানী শ্রাবন্তী বসু বলেন, সারা বছর ভিড় থাকে রাজবাড়ি গেস্ট হাউজ এলাকায়। এবার সম্পূর্ণ শুনশান।
মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় সকালে ভোটদানের হার কম ছিল। তবে বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই জায়গাগুলিতে ভোটারদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। এর কারণ এই অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত মাছচাষের উপর নির্ভরশীল। দেশবিদেশের বাজারে এই এলাকার মাছের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই সকালে ভেড়িতে কাজ করার পর ভোট দিতে যান এলাকার বাসিন্দারা। তবে গোটা মহকুমার মধ্যে সব থেকে বেশি আকর্ষণীয় ছিল বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ১৪৪ নম্বর ঈশ্বরীগাছা এফপি স্কুলের আদর্শ ভোটদান কেন্দ্র। মূলত নির্বাচন কমিশনের তরফে এই আদর্শ ভোটদান কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়েছে। এখানে রয়েছে বসার জায়গা, সেলফি জোন, ঠান্ডা পানীয় জলের ব্যবস্থা। গোটা কেন্দ্র সাজিয়ে তোলা হয়েছে অনুষ্ঠান বাড়ির মতো। এই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চর্চাও হচ্ছে। বাদুড়িয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চাতরা, চণ্ডীপুর সহ বাগজোলা এলাকায় প্রবীণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
এবার নির্বাচন কমিশনের তরফে ৮৫ ঊর্ধ্ব নাগরিকদের বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা ছিল। বাদুড়িয়া বিশিষ্ট সমাজসেবী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য বলেন, ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন’ এর ব্যাপারে বারবার নজির গড়েছে বাদুড়িয়া। আমরা বিশ্বাস করি প্রতিবারের মতো এবারও বাদুড়িয়া তার নিজের ভোটদানের রেকর্ডই ভাঙবে।