অনিমেষ মণ্ডল, আউশগ্রাম: অন্ধজনে দেহ আলো...। জন্মান্ধ পড়ুয়া। বাবা পেশায় দিনমজুর৷ ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন৷ এই পরিস্থিতিতে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসহায় ওই পড়ুয়ার কাছে দেখা দিলেন ‘মসিহা’ রূপে। শিক্ষক নিজের বেতনের দেড় লক্ষ টাকা খরচা করে জন্মান্ধ অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ার দৃষ্টিশক্তি ফেরালেন। আউশগ্রামের ভেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শনিবার চোখের জলেই শ্রদ্ধা জানান দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া পড়ুয়ারা বাবা। গরীব আদিবাসী পড়ুয়ার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ায় গোটা গ্রাম কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন ওই শিক্ষককে। আউশগ্রাম-১ ব্লকের উক্তা পঞ্চায়েতের সুন্দরপুর গ্রামের গোপাল টুডু পেশায় দিনমজুর৷ তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে৷ বড়ো মেয়ে এমএ পাঠরতা৷ আর ছোটো মেয়ে একাদশের ছাত্রী। ছেলে রামকৃষ্ণ টুডু ভেদিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। স্কুলের পড়ুয়া সংখ্যা ১,৫০০। রামকৃষ্ণ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নবকুমার ঘোষের নজরে পড়ে। পড়াশুনায় আগ্রহ রয়েছে ছেলেটির, কিন্তু সে জন্মান্ধ। লেখাপড়ার পথে চোখের অন্ধকার হয়ে উঠেছিল বড়ো প্রতিবন্ধকতা। শেষমেশ রামকৃষ্ণের এগিয়ে চলার পথকে সুগম করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নবকুমার ঘোষ। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে শুরু করেন। এরপর গত ৩১ আগস্ট কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে রামকৃষ্ণর বাঁ চোখের কর্ণিয়া প্রতিস্থাপিত হয়৷ জটিল অস্ত্রোপচারের পর দৃষ্টি ফিরে পায় অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া রামকৃষ্ণ। নবকুমারবাবু অক্টোবর মাসে অবসর নেবেন৷ তিনি ওই ছাত্রের ডান চোখের দৃষ্টি ফেরানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শনিবার শিক্ষক দিবসের দিন রামকৃষ্ণের বাবা গোপাল টুডু স্কুলে যান৷ সেখানে প্রধান শিক্ষক নবকুমারবাবুকে দেখে চোখের জল আটকাতে পারেননি। তাঁর কথায়, ছেলে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছে। আমার চোখের জল ছাড়া আর কিই বা উপহার দেব ওনাকে। তাই চোখের জল দিয়েই স্যারের পা ধুইয়ে দিয়েছি। আমি গরিব দিনমজুর৷ ওই শিক্ষক আমাদের কাছে ভগবান৷ সারাজীবন ওঁর পুজো করব।



