Bartaman Logo
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জন্মান্ধ ছাত্রের চোখের আলো জ্বালিয়ে আউশগ্রামের শিক্ষক নবকুমার ‘মসিহা’

অন্ধজনে দেহ আলো...। জন্মান্ধ পড়ুয়া। বাবা পেশায় দিনমজুর৷ ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন৷ এই পরিস্থিতিতে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসহায় ওই পড়ুয়ার কাছে দেখা দিলেন ‘মসিহা’ রূপে

জন্মান্ধ ছাত্রের চোখের আলো জ্বালিয়ে আউশগ্রামের শিক্ষক নবকুমার ‘মসিহা’
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল, আউশগ্রাম: অন্ধজনে দেহ আলো...। জন্মান্ধ পড়ুয়া। বাবা পেশায় দিনমজুর৷ ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন৷ এই পরিস্থিতিতে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসহায় ওই পড়ুয়ার কাছে দেখা দিলেন ‘মসিহা’ রূপে। শিক্ষক নিজের বেতনের দেড় লক্ষ টাকা খরচা করে জন্মান্ধ অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ার দৃষ্টিশক্তি ফেরালেন। আউশগ্রামের ভেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শনিবার চোখের জলেই শ্রদ্ধা জানান দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া পড়ুয়ারা বাবা। গরীব আদিবাসী পড়ুয়ার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ায় গোটা গ্রাম কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন ওই শিক্ষককে। আউশগ্রাম-১ ব্লকের উক্তা পঞ্চায়েতের সুন্দরপুর গ্রামের  গোপাল টুডু পেশায় দিনমজুর৷ তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে৷ বড়ো মেয়ে এমএ পাঠরতা৷ আর ছোটো মেয়ে একাদশের ছাত্রী। ছেলে রামকৃষ্ণ টুডু ভেদিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। স্কুলের পড়ুয়া সংখ্যা ১,৫০০। রামকৃষ্ণ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নবকুমার ঘোষের নজরে প‌঩ড়ে। পড়াশুনায় আগ্রহ রয়েছে ছেলেটির, কিন্তু সে জন্মান্ধ। লেখাপড়ার পথে চোখের অন্ধকার হয়ে উঠেছিল বড়ো প্রতিবন্ধকতা। শেষমেশ রামকৃষ্ণের এগিয়ে চলার পথকে সুগম করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নবকুমার ঘোষ। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে শুরু করেন। এরপর গত ৩১ আগস্ট কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে রামকৃষ্ণর বাঁ চোখের কর্ণিয়া প্রতিস্থাপিত হয়৷ জটিল অস্ত্রোপচারের পর দৃষ্টি ফিরে পায় অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া রামকৃষ্ণ। নবকুমারবাবু অক্টোবর মাসে অবসর নেবেন৷ তিনি ওই ছাত্রের ডান চোখের দৃষ্টি ফেরানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শনিবার শিক্ষক দিবসের দিন রামকৃষ্ণের বাবা গোপাল টুডু স্কুলে যান৷ সেখানে প্রধান শিক্ষক নবকুমারবাবুকে দেখে চোখের জল আটকাতে পারেননি। তাঁর কথায়, ছেলে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছে। আমার চোখের জল ছাড়া আর কিই বা উপহার দেব ওনাকে। তাই চোখের জল দিয়েই স্যারের পা ধুইয়ে দিয়েছি। আমি গরিব দিনমজুর৷ ওই শিক্ষক আমাদের কাছে ভগবান৷ সারাজীবন ওঁর পুজো করব।  

Advertisement

নবকুমারবাবুর বাড়ি ভিটি গ্রামে৷ নবকুমারবাবুর কথায়, ছেলেটাকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দেখছি৷ আমাকে সে প্রায়ই বলত স্যার আমি কি আর দেখতে পাব না৷ ছেলেটার ওই কথাগুলো বুকে বড্ড বাজত৷ তাই সব জায়গাতেই বলে রেখেছিলাম কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের কথা। তবে স্কুলের সব শিক্ষকরাও এই অস্ত্রোপচারের সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন৷ আমি চাই রামকৃষ্ণ বড়ো হয়ে বড়ো মনের মানুষ হোক।  রামকৃষ্ণর মা বুদিন টুডু বলেন, স্কুলের ওই শিক্ষক আমার ছেলের জন্য যা করলেন তা কোনোদিন ভোলার নয়৷  
এদিকে সামাজিক ভাবে ছাত্রকে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরানো ওই শিক্ষককে গোটা গ্রামের বাসিন্দারা প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ