Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬

পিএম কেয়ার্স তহবিলে ৮ হাজার ৪৫২ কোটি, অবশেষে প্রকাশ অডিট রিপোর্ট, খরচ মাত্র ০.০১ শতাংশ, বেকার পড়ে বিপুল অর্থ, খোঁচা কংগ্রেসের

দু’বছরের বিলম্ব! অবশেষে পিএম কেয়ার্স ফান্ডের ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের অডিট স্টেটমেন্ট প্রকাশ করা হল।

পিএম কেয়ার্স তহবিলে ৮ হাজার ৪৫২ কোটি, অবশেষে প্রকাশ অডিট রিপোর্ট, খরচ মাত্র ০.০১ শতাংশ, বেকার পড়ে বিপুল অর্থ, খোঁচা কংগ্রেসের
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: দু’বছরের বিলম্ব! অবশেষে পিএম কেয়ার্স ফান্ডের ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের অডিট স্টেটমেন্ট প্রকাশ করা হল। সোমবার তা আপলোড করা হয়েছে পিএম কেয়ার্স-এর ওয়েবসাইটে। অ্যাকাউন্ট অডিট হয়েছে ৬ আগস্ট, অডিটররা সই করেছেন ৭ আগস্ট। আপলোড হওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পিএম কেয়ার্স-এর অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট ৮ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা রয়েছে। তার মধ্যে ৭ হাজার ৮৪৬.৬৫ কোটিই (৯৩ শতাংশ) ফিক্সড ডিপোজিট। আরও বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অনুদান ও গচ্ছিত অর্থের সুদ বাবদ এসেছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে এই হাজার হাজার কোটি টাকার মধ্যে খরচ করা হয়েছে মাত্র ৮৭ লক্ষ টাকা। স্বাভাবিকভাবেই এ নিয়ে খোঁচা দিয়ে ছাড়েনি কংগ্রেস। দলীয় নেতা পবন খেরা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘৮ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র ০.০১ শতাংশ অর্থ। যদিও, দুর্যোগের জেরে দেশজুড়ে বিপর্যস্ত হাজার হাজার মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন ছিল। ৮ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা বেকার পড়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পরোয়া করেন? যৎসামান্যই।’ অডিট স্টেটমেন্ট আপলোড হওয়ার পর স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। তাঁদের অভিযোগ, কোথা থেকে কীভাবে সংগৃহীত অর্থ এল, কীভাবে খরচ হল, তার শর্ত কী ছিল— কিছুই জানা গেল না।

Advertisement

কেরল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, টিকটক, হুয়াই, শাওমি সহ বহু চীনা সংস্থা পিএম কেয়ার্স ফান্ডে কোটি কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। তাদের তোপ, বিশেষ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত চীনা সংস্থাগুলি কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর বেসরকারি ফান্ডে অনুদান দিচ্ছে? এই কারণেই কি লাদাখ ও অরুণাচলে চীনের ভারতীয় ভূখণ্ড দখল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চুপ? মাত্র ০.০১ শতাংশ অর্থ খরচ হওয়ায় সেভাবে এই তহবিলের পাহাড়প্রমাণ টাকা বেকার পড়ে রয়েছে, তার উল্লেখ করে স্বচ্ছতা কর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলি ৩২৪ কোটি টাকা ‘রিফান্ড’ বা ফেরত দিয়েছে। কিন্তু এই অর্থ কীসের জন্য এবং কেন ফেরত দেওয়া হয়েছিল, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। কোন সংস্থা ফেরত দিয়েছে? ত্রুটিপূর্ণ সরঞ্জামের দায় এড়াতেই কি এই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছিল? অডিট রিপোর্টের সঙ্গে থাকা ‘নোট’গুলি কেন আপলোড করা হয়নি? ভরদ্বাজের তোপ, দুর্যোগের সময় নাগরিকদের সাহায্য করার জন্য গঠিত তহবিল, যেটি বিদেশি উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ সহ হাজার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে, তা গোপনীয়তায় ঢাকা। তহবিলের উৎস সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পিএম কেয়ার্স ফান্ড আরটিআই আইনের অধীনে নিজেদের তথ্য জমা দিতে অস্বীকার করে জনসাধারণের স্ক্রুটিনি এড়িয়েই চলেছে।
পিএম কেয়ার্স তহবিল নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন আগেও উঠেছে। করোনা মহামারীর আবহে ২০২০ সালের মার্চে এই তহবিল গঠন করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, দুর্যোগ ও আপৎকালীন পরিস্থিতির দ্রুত মোকাবিলার লক্ষ্যে এই নয়া তহবিল তৈরি করা হয়েছে। প্রথম তিন বছরে ১৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ হয়, যার মধ্যে শুধু প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা জমা হয়েছিল। টাকা সংগ্রহের সময় সরকার বলেছিল যে, যেহেতু পিএম কেয়ার্স ফান্ডটি কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা গঠিত, তাই এটি সিএসআর তহবিলের অর্থ গ্রহণ করতে পারবে। সরকারি আধিকারিকদের বেতন দানের জন্য ‘আবেদন’ জানিয়েছিলেন স্বয়ং মন্ত্রীরা। কিন্তু যখন সংগৃহীত অর্থ ও খরচ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের দাবি ওঠে, সরকার বলে এই ট্রাস্ট কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ নয়। তাই তথ্যের অধিকার (আরটিআই) আইনের অধীনে জবাবদিহি করতে ট্রাস্ট বাধ্য নয়।  সরকার একথা বললেও ঘটনাচকক্রে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পদাধিকারবলে পিএম কেয়ার্স ফান্ডের চেয়ারপার্সন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ