নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের পর কলকাতা সহ ১৩টি পুরসভা এলাকায় নির্মীয়মাণ বিল্ডিংগুলির অডিট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। তার জন্য এসব অঞ্চলে আপাতত ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে নির্মাণের যাবতীয় কাজ। ছ’তলা বা তার বেশি উচ্চতার আবাসিক বহুতলের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য। তৈরি হয়েছে হাইপাওয়ার কমিটি। সার্ভে করার জন্য বিভিন্ন দপ্তর মিলিয়ে বরোভিত্তিক যৌথ দল তৈরি হয়েছে কলকাতা পুরসভায়। অন্যান্য পুরসভায়ও যৌথ টিম গঠন হয়েছে। কীভাবে হবে অডিট? কোন বিষয়গুলি মাথায় রেখে হবে সমীক্ষা? সেসব নির্দিষ্ট করে একটি এসওপি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে ছাড়পত্র বা অনুমোদন পাওয়া সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যান বা নির্মাণ এই অডিটের আওতায় থাকবে। পাশাপাশি, অডিটের জন্য একটি ‘ইচ্ছাপত্র’ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট নির্মাণের ডেভেলপারকেই। সেই ‘ইচ্ছাপত্র’-এর ফর্ম্যাটও তৈরি করে দিয়েছে সরকার। নাম দেওয়া হয়েছে ‘গো-অ্যাহেড অ্যাপ্লিকেশন’।
সোমবার থেকে যৌথ টিমের ময়দানে নেমে পড়ার কথা থাকলেও কলকাতায় এদিন সেভাবে সার্ভে করা যায়নি বলেই খবর। অন্যান্য পুরসভা অঞ্চলেও চিত্রটা কমবেশি এক। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘প্রত্যেক নির্মীয়মাণ ভবনের ডেভেলপারকে একটি অ্যাপ্লিকেশন জমা দিতে হবে। সেই অ্যাপ্লিকেশনগুলি খতিয়ে দেখবেন বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। তারপর শুরু হবে যৌথ দলের স্পট ভিজিট।’ অর্থাৎ আগে ডেভেলপারকেই সরকারের কাছে অডিটের জন্য আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট পুরসভার বিল্ডিং বিভাগে সরাসরি গিয়ে বা ই-মেলের মাধ্যমে এই ‘ইচ্ছাপত্র’ জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এসওপিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নথিপত্রসহ সমস্ত আবেদন জমা পড়ার পর তা পুরসভার হাতে থাকা সংশ্লিষ্ট নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। তারপর যৌথ দল যাবে সার্ভে করতে। এখনও সেই অর্থে কোনো ‘ইচ্ছাপত্র’ জমা পড়েনি। তাই আপাতত দু’দিন পুরসভার হাতে থাকা নথি ধরে পাঁচ থেকে ছ’টি নির্মীয়মাণ ভবনে সমীক্ষা চালাবে যৌথ টিম। অডিট বা সমীক্ষায় পাওয়া তথ্য জমা পড়বে হাই-পাওয়ার কমিটির কাছে। সেখান থেকে সিলমোহর দিলে পুনরায় নির্মাণ শুরুর জন্য এনওসি মিলবে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি টেকনিক্যাল সাব-কমিটিও। সেখানে রাইটস, খড়গপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে হাই-পাওয়ার কমিটি। সার্ভে করতে গিয়ে কোন কোন বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে, ৬৩টি পয়েন্টসহ তার একটি তালিকা করা হয়েছে। শুধু বিল্ডিং প্ল্যান নয়, মাটি পরীক্ষা রিপোর্ট, স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটিসহ যাবতীয় বিষয় থাকছে নজরে। কোনো নথি নিয়ে ‘সন্দেহ’ থাকলে প্রয়োজনে টেকনিক্যাল সাব-কমিটিও যেতে পারে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে। এদিকে, সোমবার তারাতলার ভেঙে পড়া গোডাউনের আর্কিটেক্ট ও দুই ইঞ্জিনিয়ার কলকাতা পুরসভায় হাজিরা দেন। তাঁদের অজান্তেই বেআইনি নির্মাণ হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন তাঁরা।