অভিষেক পাল , বহরমপুর:
অভিষেক পাল , বহরমপুর:
সর্বকালীন রেকর্ড ছুঁয়েছে সোনার দাম। তা সত্ত্বেও মুর্শিদাবাদ জেলায় ধনতেরাস উপলক্ষ্যে সোনার গয়না কেনার হিড়িক পড়েছে। বিভিন্ন গয়নার দোকানেও আকর্ষণীয় অফার দিয়ে ক্রেতা টানার চেষ্টা চলছে। বহরমপুরের শতাব্দীপ্রাচীন খাগড়া মার্কেটের সোনাপট্টিতে ধনতেরাসের একসপ্তাহ আগে থেকেই সাজো সাজো রব পড়েছে। সোনার পাশাপাশি বহরমপুরের খাগড়ায় কাঁসাপিতলের বাসনের বিক্রিও বেড়েছে।
দুর্গাপুজোর পরই ১০গ্রাম সোনার দাম ১লক্ষ ২০হাজারে পৌঁছে যায়। ফলে সোনা কেনার উৎসাহ তেমন দেখা যায়নি। তাই ধনতেরাসে খাগড়ার বিভিন্ন স্বর্ণ বিপণিতে কোথাও সোনার দামে, আবার কোথাও গয়নার মজুরিতে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সোনার দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার থেকেই কেনাকাটায় উৎসাহ দেখে শনিবার ভালোই ভিড় হবে বলে আশা করছেন সোনা ব্যবসায়ীরা। অনেক গয়নার দোকানে ক্রেতাদের চাপ সামাল দিতে বাড়তি লোক নিয়োগ হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা বুলিয়ান মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক তথা একটি স্বর্ণ বিপণির কর্ণধার রাজীব ধর বলেন, ধনতেরাসের অফারে অনেকেই দামে, মজুরিতে ভালো ছাড় দিচ্ছেন। কিছুটা কম লাভ রেখেই আমরা গয়না বিক্রি করছি।
অপর এক নামী ব্র্যান্ডের গয়না বিপণির কর্ণধার বলেন, প্রতি ১০গ্রাম সোনায় দেড়হাজার টাকা করে দামে ছাড় থাকছে। সেইসঙ্গে গয়নার মজুরিতে ১৫-২০ শতাংশের বেশি ছাড় রয়েছে। যাঁরা ভারী গয়না বানাচ্ছেন, তাঁদের অনেকটাই সুবিধা হয়েছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কমেছে।
এদিন সকাল থেকে খাগড়ার বিভিন্ন কাঁসা-পিতলের দোকানে ভালো বিক্রি হয়েছে। সোনার দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই কাঁসা-পিতলের বাসন কিনে ধনতেরাসের নিয়মরক্ষা করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সেইসঙ্গে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার শোরুমে বৈদ্যুতিন সামগ্রী কেনাকাটাতেও ছাড় মিলছে। খাগড়ার কাঁসা-পিতল ব্যবসায়ী বাবলু রায় বলেন, আমাদের তৈরি জিনিসও তো বাড়িতে সম্পদ হিসেবে থেকে যায়। কাঁসা-পিতলের দাম বাড়লেও সোনার মতো লাফিয়ে বাড়েনি। তাই ধনতেরাসে নিয়মরক্ষায় অনেকেই আমাদের দোকান থেকে বাসনপত্র কিনছেন। গত কয়েকদিন ধরে আমাদের বিক্রি বেড়েছে।
বহরমপুরের হরিদাসমাটির বাসিন্দা নবনীতা রায় বলেন, গতবার ধনতেরাসে সোনার দোকানে যাওয়াই হয়নি। সোনার দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। দোকানদাররা মজুরিও বাড়াচ্ছে। এবার ধনতেরাস অফারে কোথাও কোথাও মজুরিতে সর্বোচ্চ ২০শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় গয়নার ক্ষেত্রে প্রতি ১০গ্রামে হাজার টাকা করে কম নেওয়া হচ্ছে। এই সুযোগে যদি হাল্কা গয়না কেনা যায়, সেই আশায় রয়েছি। সোনার দাম একটু কমলে তবেই ভারী গয়নার দিকে ঝুঁকব।