নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে ‘জোর’ করে অন্যের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত ২ নম্বর ব্লকের শাসন পঞ্চায়েতের খামার-নওবাদ এলাকায়। এ নিয়ে উপপ্রধান জিয়াউল ইসলামের বিরুদ্ধে শাসন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন জমির মালিক মিজানুর গোলদার। মিজানুরের স্পষ্ট দাবি, জমির মালিকানার সমস্ত প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। তারপরেও উপপ্রধান ক্ষমতার জোরে আমার জমি দখলের চেষ্টা করছেন। তবে, সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন জিয়াউল। তবে, উপপ্রধানের ‘দাদাগিরি’র কারণে ‘বাংলার আবাস’ প্রকল্পে বাড়ি তৈরি করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এই উপভোক্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শাসন গ্রাম পঞ্চায়েতের খামার-নওবাদ গ্রামের বাসিন্দা সহিদুল গোলদার কয়েক বছর আগে তাঁর ছেলে মিজানুর গোলদারের নামে শাসন মৌজায় ২২৯৭ ও ২২৯৮ দাগে মোট ১১ শতক জমি কেনেন। সেই জমিতে এতদিন সহিদুলরা চাষবাস করেছেন। জমির দলিল ও পরচা রয়েছে মিজানুরের নামে। ওই জমিতে আবাস যোজনার ঘর করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন সহিদুল। অভিযোগ, ওই জমি জোর করে দখলের চেষ্টা করছেন উপপ্রধান জিয়াউল। এই দখলদারিতে বাধা দিতে গেলে তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। তাই এই জমিতে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শাসন পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক। মিজানুর বলেন, আবাসের ঘরের জন্য আবেদন করেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ঘর তৈরি করতে বাধা দিচ্ছেন উপপ্রধান। তিনি আমার জমি দখলের চেষ্টা করছেন। মোটা টাকাও দাবি করেছেন। প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেকারণে আমি শাসন থানায় জিয়াউল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা নিরুপায়। বাড়ি তৈরি করতে না পারলে টাকা ফেরত চলে যাবে। এদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপপ্রধান জিয়াউল ইসলাম। তিনি বলেন, সহিদুলরা যে দলিল দেখাচ্ছেন, সেটা আসলে জাল। তা দেখিয়েই তাঁরা ওই জমি দখল করে ঘর বানাতে চাইছেন। পঞ্চায়েতের কমিটি ওই জমিতে ঘর করতে নিষেধ করেছে। টাকা চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।