Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কণ্ঠরোধের চেষ্টা! ছ’টি হল ঘুরে রাস্তায় দাঁড়ালেন ককরোচরা, অভিযুক্ত বিজেপি

দিন কয়েক আগে আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার অনুষ্ঠানে সরকারি প্রেক্ষাগৃহ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

কণ্ঠরোধের চেষ্টা! ছ’টি হল ঘুরে রাস্তায়  দাঁড়ালেন ককরোচরা, অভিযুক্ত বিজেপি
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিন কয়েক আগে আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার অনুষ্ঠানে সরকারি প্রেক্ষাগৃহ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই একই অভিযোগ করলেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আলাপ করার জন্য ভারত সভা হল বুক করলেও, তা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয় বলে অভিযোগ। আজ, বুধবার নাট্যকর্মীরা রাণুছায়া মঞ্চে সাংস্কৃতিক বিক্ষোভ দেখানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। নাট্যকর্মীদের বক্তব্য, পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। ককরোচ পার্টির নেতা এই হল না পাওয়ার বিষয়টির জন্য বিজেপিকে দায়ী করছেন।  

Advertisement

বাঁকুড়ার ইন্দাস থেকে ফিরে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা ছিল আশুতোষের। প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন হল না। প্রেস ক্লাব জানিয়েছে, অবিরাম বর্ষণের কারণে ক্লাবে জল ঢুকে যায়। তাই বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বন্ধ রাখতে হয়। আশুতোষ এদিন প্রেস ক্লাবের পাশের রাস্তায় খোলা আকাশের নীচেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। আশুতোষ বলেন, ‘ভারত সভা থেকে সকালে জানানো হল, আমাদের হল দেওয়া যাবে না। কলকাতার ছ’টি প্রেক্ষাগৃহ আমাদের জায়গা দেয়নি। বিজেপির স্থানীয় নেতারা সেই হলে গিয়ে হুমকি দিয়েছে। আমরা তো শান্তিপূর্ণ বৈঠক করতে চেয়েছিলাম। বিজেপি এখানে মাত্র কয়েক মাস এসেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ওদের মতামত ওরা বলতেই পারত। আমরাও শুনতাম। কিন্তু ওরা গুন্ডামি বেছে নিল।’ ককরোচ পার্টির নেতা এদিনও বলেন, রাজনীতি নয়, তাঁরা সরকারকে চাপে রাখতে চান। বাঁকুড়াতে আশুতোষের সঙ্গে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ, ময়ূখ বিশ্বাসকেও দেখা গিয়েছিল। আশুতোষ বলেন, ‘যাঁরা শিক্ষাব্যবস্থাকে বদলাতে চান। সকলকে স্বাগত। বিজেপির কেউ আসতে চাইলে, তাঁকেও স্বাগত।’ এদিকে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় নাট্যকর্মী বিমল চক্রবর্তী বলেন, ‘পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময় ওই জায়গায় অন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া রয়েছে। আমরা আর কী বলব? সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে প্রেস ক্লাবে।
আশুতোষ বলেন, ‘পিতৃহারা আব্দুল হাফিজের দায়িত্ব আমাদের। ওঁর কিছু হলে, তার দায় বাংলার বিজেপি সরকারকে নিতে হবে।’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘দিল্লি থেকে ফেরার পর স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক তাঁকে হুমকি দিয়েছে। স্থানীয় স্কুলে কথা বলতে গেলে বিজেপির লোকেরা মারধর করেছে। হাসপাতালে গিয়ে মারধর করে।’ আব্দুল হাফিজকে আর্থিক সাহায্যর জন্য ‘ফান্ড রাইজিং’-এর ব্যবস্থা করা হবে। ককরোচ পার্টির নেতৃত্ব আব্দুলের সঙ্গে থাকবেন। ১০ দিনের মধ্যে দাবি সরকার না মানলে, বাঁকুড়া ডিএম অফিস ঘেরাও হবে। আগামী দিনে রাজ্যে তাঁরা সংগঠন মজবুত করতে চান ও স্কুল ঠিক করার আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান। আশুতোষ হুশিয়ারির সুরে বলেন, ‘ওরা ভাবছে, আমাদের বারবার প্রত্যাখ্যান করলে, মনে হয় ভয় পেয়ে যাব। এই প্রজন্ম ভয় পাওয়ার নয়। এখনও সময় আছে। বদলে যান।’ তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে একই প্লেবুক চালাচ্ছেন মোদিজি। এবার আপনিও আমাদের সারপ্রাইজ করুন।’ অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের একটি গ্রামে স্কুলের কর্মসূচিতে গিয়ে ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত্ দীপকে বলেন, ‘আব্দুল বলছেন, ওর ক্ষতিপূরণ চাই না। ওর বাবার নামে একটি স্কুল তৈরি হোক। আব্দুল আমার দেখা সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমী।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ