Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শৈলেন মান্না সরণি ও আমতা রোডে মাটি-খোয়া ফেলে জোড়াতাপ্পির চেষ্টা

শৈলেন মান্না সরণি ও আমতা রোডে মাটি-খোয়া ফেলে জোড়াতাপ্পির চেষ্টা
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নতুন করে আর বৃষ্টি না হলেও জলযন্ত্রণা থেকে রেহাই মিলছে না হাওড়াবাসীর। দাসনগর, ইছাপুর, রামরাজাতলা সহ বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার উপর দিয়ে বইছে জল। এদিকে, বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও পুজোর পিচের প্রলেপ পড়লই না বেশ কিছু রাস্তায়। মরণফাঁদ ঢাকতে তাই এখন স্রেফ মাটি ফেলে চলছে জোড়াতাপ্পি দেওয়ার কাজ।

Advertisement

একদিকে চরম বেহাল রাস্তা, অন্যদিকে রাস্তায় হাঁটুসমান জল। দুই সমস্যায় জেরবার দাসনগরের বাসিন্দারা। দিনরাত ট্রাক ও বড় বড় লরি, ডাম্পার চলাচলের কারণে হাওড়া-আমতা রোডের বিভিন্ন অংশে কার্যত ছোটোখাটো জলাশয় তৈরি হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ভারত জুটমিলের সামনে থেকে দাসনগর থানা মোড় পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে গার্ডরেল গিয়ে ঘিরে রেখেও দুর্ঘটনা ঠেকানো যাচ্ছে না। বাইক, সাইকেল নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন আরোহীরা। বাড়ছে যানজটের যন্ত্রণাও। পুজোর সময় এই যানজট মাত্রা ছাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তার উপর দাসনগর এলাকার অলিগলি থেকে এখনও জল সরছে না। বহু বাড়ির ভিতরে, শোওয়ার ঘরে পর্যন্ত জল থইথই অবস্থা। স্থানীয় বাসিন্দা প্রীতি রাই, সীমা রাই, অজিতেশ তিওয়ারি, রক্তিম সামন্ত বলেন, ‘জল আর বেহাল রাস্তা নিয়ে আমরা জেরবার। পুজোর সময় অন্তত এই ভোগান্তি থাকবে না ভেবেছিলাম। কিন্তু সেই আশাও দূরাশা।’ বুধবার জলযন্ত্রণার একই ছবি দেখা গিয়েছে ইছাপুর, ডুমুরজলার বহু এলাকায়। দেবীপক্ষের তৃতীয়াতে আবাসন থেকে পাড়ার মোড় পর্যন্ত যেতে পারছেন না প্রবীণরা। কিছু এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে কোমরসমান জল ঠেলে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। 
শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা শৈলেন মান্না সরণি আগে থেকেই বেহাল ছিল। এখন জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। এই রাস্তার সৌন্দর্যায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তার পাশে সৌন্দর্যায়নের কিছু কাজ হলেও সিংহভাগ অংশে সংস্কারের বিষয়ে কারও কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। যদিও হাওড়া পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, শৈলেন মান্না সরণি ও হাওড়া-আমতা রোড সংস্কারের দায়িত্ব বর্তমানে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণেই হোক কিংবা উদাসীনতা, পুজোর আগে এই রাস্তা আর সারাই হলো না। পুজোর চারটে দিন ভিড়ে এই রাস্তায় পড়লে তো দুর্ঘটনা অনিবার্য। এদিন অবশ্য শৈলেন মান্না সরণির কয়েকটি জায়গায় মরণফাঁদ ঢাকতে হাওড়া সিটি পুলিশকে মাটি ফেলতে দেখা গিয়েছে। খেল সিটি, রিং রোড, হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড যাওয়ার রাস্তা থেকে এদিন পাম্প করে জমা জল সরানোর তোড়জোড় নজরে এসেছে। সেই জল আবার গিয়ে পড়ছে ডুমুরজলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন রাস্তাতেই। ফলে বেলেপোল যাওয়ার লেনটি কার্যত সুইমিং পুলে পরিণত হয়েছে। 
হাওড়া পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, শহরের বহু জায়গা থেকেই জল সরে গিয়েছে। যেখানে এখনও জল আছে, ভারী বৃষ্টি না হলে দ্রুত নেমে যাবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ