


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: সপ্তাহ খানেক আগে উলুবেড়িয়া পুরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের লতিবপুরে একটি বহুতল আবাসনের বিরুদ্ধে ভূগর্ভ থেকে জল তোলার অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি পুরসভার নজরে আসার পরেই কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফুলেশ্বরে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলতলায় একটি বহুতলের বিরুদ্ধে ভূগর্ভ থেকে জল তোলার অভিযোগ উঠল। এক্ষেত্রেও পুরসভা একইভাবে জল উত্তোলনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
উলুবেড়িয়া শহরের ৩২টি ওয়ার্ডে একাধিক বহুতল রয়েছে। সূত্রের খবর, একাধিক বহুতলে পানীয় জলের সংযোগ এখনও দেয়নি পুরসভা। ফলে সেইসব আবাসনের বাসিন্দাদের ভূগর্ভস্থ জলের উপরেই নির্ভর করতে হয়। ফুলেশ্বরের বেলতলায় এমনই একটি বহুতলে ভূগর্ভ থেকে জল তোলার চেষ্টা চলছিল। সোমবার সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে দেখা গেল মাটিতে বোরিং করা হয়েছে। চারদিকে যন্ত্রপাতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, আগে সাড়ে চারশো ফুট পাইপ নামালেই জল পাওয়া যেত। এখন জলস্তর নেমে যাওয়ায় সাড়ে ৬০০ ফুট পাইপ নামাতে হচ্ছে, তবেই মিলছে জল। এদিকে পুরসভার নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে ভূগর্ভ থেকে জল তোলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, যে সব জায়গায় বহুতল গড়ে উঠেছে, সেখানে জলস্তর অনেকটাই নীচে নেমে গিয়েছে। ফলে সরে গিয়ে অন্য জায়গা থেকে জল তোলার চেষ্টা চলছে। যেভাবে মাটির নীচে হু হু জলস্তর কমছে, তাতে সমূহ বিপদের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এখনই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত পুরসভার। উলুবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান অভয় দাস ও ভাইস চেয়ারম্যান ইনামুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ভূগর্ভ থেকে কোনওভাবেই জল তোলা যায় না। আমরা ওই বহুতলে ভূগর্ভ থেকে জল তোলার খবর পাওয়া মাত্র কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। আবাসিকদের পানীয় জলের সমস্যার প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, পুরসভায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে ওই আবাসনে জলের সংযোগ দিয়ে দেওয়া হবে। -নিজস্ব চিত্র