নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মিতালি বাগের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করল গোঘাট থানার পুলিশ। ধৃত তিনজনই বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত। অন্যদিকে, বর্মা এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা সকলেই তৃণমূলের সমর্থক বলে দাবি। সাংসদের উপব হামলার ঘটনায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর আপ্ত সহায়ক চন্দন চক্রবর্তী। কিন্তু, গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র তিনজন। গ্রেপ্তার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।
ভোটের আগে এই ঘটনা নিয়ে ফের রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারও আরামবাগ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন সাংসদ মিতালিদেবী। এদিন তাঁর ইউএসজি করানো হয়। তিনি হাসপাতালে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসবে হাওয়া তুলেই মহিলাদের উপর অত্যাচার শুরু করছে। সাংসদকেও ছাড়ছে না। এই হামলার জবাব মানুষ ইভিএমে বিজেপিকে দেবে বলেই আমার বিশ্বাস। নির্বাচন কমিশন চোখে ঠুলি পরে বসে আছে। মানুষই তাদের বিচার করবে। আমি এখনো অসুস্থ। কিন্তু, যতদিন বেঁচে আছি লড়াই চালিয়ে যাব।
তৃণমূলের গোঘাট-১ ব্লক সভাপতি কাজল রায় বলেন, আমাদের সাংসদের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ এখনো পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর বর্মার ঘটনায় বহু তৃণমূল কর্মী ও গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করছে। আমরা ইতিমধ্যেই থানায় গিয়ে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি। অভিযুক্তরা ধরা না পড়লে আবার যাব। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।
পাল্টা বিজেপি নেতা তথা পুরশুড়ার প্রার্থী বিমান ঘোষ বলেন, বর্মা এলাকায় আমাদের প্রার্থী সহ কর্মীদের গাড়ি ভাঙচুর, মারধর করা হয়। বহু কর্মী জখম হন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু, সাংসদের ঘটনায় ধৃত তিনজন যুক্ত ছিল না। আমরা এই ব্যাপারে আইনি লড়াই লড়ছি। তৃণমূল নাটক করছে। ওই ঘটনা তাদের দলের কোন্দলের ফলে হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার আরামবাগে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাবেশ ছিল। তাতে যোগ দিতে গোঘাটের হাজিপুরের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে আসছিলেন সাংসদ। গাড়ির সামনের সিটে বসেছিলেন সাংসদ। গোঘাট ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাছে একদল বিজেপি মদতপুষ্ট দুষ্কৃতী সাংসদের গাড়ি আটকে ভাঙচুর চালায়। গাড়ির কাচ ভেঙে গিয়ে সাংসদ সহ তাঁর সঙ্গীরা জখম হন। কোনোক্রমে চালক সেখান থেকে গাড়ি বের করে সাংসদকে আরামবাগ মেডিকেলে নিয়ে আসেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনার আগে বর্মা এলাকায় বিজেপির প্রচার কর্মসূচিতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তাতে জখম বিজেপি কর্মীদের প্রথমে গোঘাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে।