নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কথায় আছে, ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়’। এমনই ঘটনা ঘটল নিউটাউনে। সেখানে মাঝরাতে এক নার্সিংহোমে হামলা চালিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের জোর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে! শুধু তাই নয়, নিরাপত্তারক্ষী এবং কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে, কে বা কারা হামলা চালাল, তা নিয়ে পুলিশের কাছে মৌখিক অভিযোগ করা হলেও বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিউটাউন থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। বিধাননগর কমিশনারেটের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, বাড়ির মালিক এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের পুরানো বিবাদের জেরেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
মঙ্গলবার রাত আড়াইটে নাগাদ ওই নার্সিংহোমে একদল লোক আচমকা হামলা চালায়। নার্সিংহোমের এক কর্মী বলেন, প্রথমে গেটে থাকা নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করা হয়। তারপর ভিতরে ঢুকে কর্মী ও নার্সদের মারধর করে হামলাকারীরা। সেই সময় ওয়ার্ডে রোগীরা ঘুমোচ্ছিলেন। দু’-একজনের হাতে চ্যানেল করা ছিল। তারা রোগীদের চ্যানেল খুলে জোর করে বাইরে বের করে দেয়। বুধবার ভোররাত পর্যন্ত এই গণ্ডগোল চলে। ১০০ ডায়ালে ফোন পেয়ে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে আসে, ততক্ষণে নার্সিংহোম ফাঁকা। কেউ নেই। তালা ঝুলছে। দু’পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছে পুলিশ।
এক পুলিশ অফিসার বলেন, বাড়ির মালিক এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছে। তাঁদের গণ্ডগোল নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, জোর করে নার্সিংহোম খালি করার জন্য বাড়ির মালিকের লোকজনই হামলা চালিয়েছে। হামলার কথা অস্বীকার করে উলটে বাড়ির মালিক পুলিশকে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই নার্সিংহোমটি চলছিল। ২০১৯ সালে মাসিক ২০ লক্ষ টাকা ভাড়ায় সম্পত্তিটি লিজ দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে ৯ কোটি টাকারও বেশি ভাড়া বকেয়া রয়েছে।
কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, অভিযোগ দায়ের হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। মৌখিকভাবে অভিযোগ শুনেছি। আমরা লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তারপর আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।



