নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্ত্রী চলে গিয়েছেন বাড়ি ছেড়ে। অন্য একজনের সঙ্গে সংসার করছেন। এ কথা শোনার পর ধরে নিলেন গত হয়েছেন স্ত্রী। তারপর নিজের মাথা মুড়োলেন। যজ্ঞ করলেন। নিয়ম মেনে করলেন স্ত্রীর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। পিণ্ডিও দিলেন। পাড়ার লোককে খাওয়ালেন মিষ্টি। এই ঘটনার পর উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে নরেন নায়ক নামে ওই প্রাক্তন সেনাকর্মীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। ‘কি হয়েছে রে, বিষয়টি কি সত্যি?’ এই প্রশ্ন বহু মানুষের।
জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়। তারপর বিয়ে। চার হাত এক হয়েছিল নরেন ও পাশের গ্রামের এক তরুণীর। হিঙ্গলগঞ্জের উত্তর মামুদপুর গ্রামের বাসিন্দা নরেন। তিনি সেনায় কর্মরত ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়ের পর প্রেম তৈরি হয়। কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর তিন বছর আগে নরেনের সঙ্গে বিয়ে হয় মহিলার। বছর তিনেক সংসার করেন তাঁরা। বিভিন্ন জায়গায় হানিমুনে যান। এরপর দেখা দেয় সমস্যা।
সম্প্রতি স্ত্রীর আচরণ দেখে সন্দেহ শুরু হয় নরেনবাবুর। সোশ্যাল মিডিয়ায় মগ্ন থাকেন স্ত্রী। বা অন্য কারও সঙ্গে ফোনে অনর্গল কথা বলেন। এ সব বিষয় ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি। এই নিয়ে সাংসারিক সমস্যা দেখা দেয়। এরইমধ্যে মাসখানেক আগে স্ত্রী যান নিখোঁজ হয়ে। খোঁজখবর করে পরিচিতদের মাধ্যমে নরেন জানতে পারেন, স্ত্রী অন্য এক জায়গায় সংসার করছেন। এরপর একটি ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রীকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। কয়েকদিন ধরে বন্ধুত্ব তৈরি করেন। দিন দুয়েক আগে কথা বলতে বলতে স্ত্রীর সমস্ত ঘটনা স্পষ্ট হয় নরেনবাবুর কাছে। জানতে পারেন, অন্য একজনের সঙ্গে সংসার করছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ছবি দেখেন। দেখে অবাক হন। তারপর স্ত্রীকে জানান তিনি ওঁর শ্রাদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এরপর মঙ্গলবার করেন শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। এলাকার বাসিন্দাদের মিষ্টি খাওয়ান। বলেন, ‘স্ত্রীর সঙ্গে ফেসবুকে কথা বলে জানতে পারি ও সংসার করছে। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম জীবিত অবস্থাতেই স্ত্রীর শ্রাদ্ধ করব। সেই মতো মাথা নেড়া করেছি। যজ্ঞ ও পিণ্ডদান সম্পন্ন করেছি। হিন্দুমতে আমার জীবন থেকে চিরবিদায় জানালাম ওঁকে। আমি খুশি। আশা করি স্ত্রীও খুশি।’ তবে এই ঘটনায় তাজ্জব স্থানীয় বাসিন্দারা। নরেনের প্রতিবেশী ফণী পাত্র, জগদীশ মাইতি বলেন, ‘সত্যি বিষয়টি অবাক করার মতো।’