Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আটকে যাচ্ছে কার্ড, এটিএম জালিয়াতিতে ত্রস্ত শহর

আটকে যাচ্ছে কার্ড, এটিএম জালিয়াতিতে ত্রস্ত শহর
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০৩
Prefer us on Google

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ। টাকার দরকার। তাই রবিবার সকাল সকালই একটি ব্যাঙ্কের এটিএমে হাজির হয়েছিলেন পূর্ব বড়িশার বাসিন্দা সুব্রত রায়। চেনা এটিএম। বেহালা চৌরাস্তার কাছেই। নিরাপত্তা রক্ষী থাকে না। মেশিনটিও পুরনো। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট স্লটে ডেবিট কার্ডটি আটকে যায় না। বরং বের করে নিতে হয়। তাতে অবশ্য অসুবিধা হয় না তেমন। কিন্তু সেদিন হল। এটিএমের নির্দিষ্ট স্লটে আটকে গেল সুব্রতবাবুর ডেবিট কার্ড। বিস্তর টানাটানি করলেন। বৃথা চেষ্টা! এমন সময় মুশকিল আসানে এটিএমে হাজির হন দুই যুবক। তাঁদের পরামর্শমতো এটিএম ইঞ্জিনিয়ারকে ফোন করে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন সুব্রতবাবু। হঠাৎ ফোনে মেসেজ। অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা ‘হাওয়া’!

Advertisement

তারিখটা ছিল গত ২৩ ফেব্রুয়ারির। এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে হিসেব করলে, ১০ দিনে কলকাতা শহর-শহরতলিতে অন্তত এক ডজন জালিয়াতি হয়েছে এই কৌশলে। কলকাতার সার্ভে পার্ক, টালিগঞ্জ, ঠাকুরপুকুর, বউবাজার, বেলেঘাটা থেকে শুরু করে দমদমের ঘুঘুডাঙা, গোরাবাজার,  চিড়িয়ামোড় এবং হুগলির কোন্নগর—সর্বত্র খোয়া গিয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। সার্ভে পার্ক থানা এলাকায় কিশোরভারতী স্টেডিয়ামের পাশে জনপ্রিয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএমে একই দিনে এমন দু’টি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে লালবাজারের সাইবার থানার গোয়েন্দারা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একজনকেও গ্রেপ্তার করা যায়নি। 
সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিসের এলাকায় এই ধরনের সিংহভাগ অভিযোগের ক্ষেত্রে কার্যত জেনারেল ডায়েরি করেই দায় সারছে থানাগুলি। ফলে এই চক্র এখনও কার্যত বিনা বাধায় অপরাধ করে বেড়াচ্ছে বৃহত্তর কলকাতা বা শহরতলি এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিসের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ভিনরাজ্যের (সম্ভবত বিহার ও ঝাড়খণ্ডের) এক বা একাধিক চক্র এই কারবারে সক্রিয়। তাদের মূল টার্গেট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের রক্ষীবিহীন এটিএম কাউন্টারগুলি। কারণ, এখনও পর্যন্ত যে এক ডজন অভিযোগ এসেছে, তার মধ্যে ১১টিই ঘটেছে জনপ্রিয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএমে।
কোন কৌশলে টাকা হাতাচ্ছে ভিনরাজ্যের এই গ্যাং? সুব্রতবাবু লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল পৌনে ১০টা নাগাদ তিনি বেহালা চৌরাস্তার কাছে একটি এটিএমে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। তখনই কার্ডটি আটকে যায়। তখন এটিএমে ঢুকে পড়া দুই যুবক তাঁকে মেশিনের গায়ে সাঁটানো একটি কাগজে লেখা ফোন নম্বর দেখায়। বলে, ‘এটা এটিএম-ইঞ্জিনিয়ারের নম্বর। আপনি ফোন করুন।’ সুব্রতবাবু ফোন করলে অপরপ্রান্ত থেকে ‘এটিএম-ইঞ্জিনিয়ার’ নির্দেশ দেন, ‘এটিএম পিন’ বারবার টাইপ করুন। তারপরও অবশ্য কার্ড বেরিয়ে আসেনি। তখন তাঁকে বাইরে গিয়ে একটু অপেক্ষা করতে বলে ‘এটিএম ইঞ্জিনিয়ার’। সে নাকি কাছেই শীলপাড়াতে থাকে। এখনই আসছে। সুব্রতবাবু রাস্তার দিকে কিছুটা এগিয়ে যান। মিনিট দশেক পরেই তাঁর ফোনে একের পর এক মেসেজ আসে। দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে মোট সাত দফায় ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি দৌড়ে ওই এটিএমে এসে দেখেন, স্লটে কোনও কার্ড আটকে নেই। উধাও এটিএমের গায়ে সাঁটানো সেই ইঞ্জিনিয়ারের ফোন নম্বরও! সঙ্গে ‘সাহায্যকারী’ও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ