নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আশঙ্কাই সত্যি হল! নয়া কায়দায় এটিএম জালিয়াতি কাণ্ডে ঝাড়খণ্ড যোগ ক্রমশ স্পস্ট হচ্ছে। দশ দিনে কলকাতা ও কলকাতা শহরতলিতে এক ডজন এটিএম জালিয়াতি কাণ্ডে গোয়েন্দাদের হাতে সূত্র হিসেবে আপাতত একটি মোবাইল নম্বর এসেছে। প্রতারিতদের মোবাইল ঘেঁটে পাওয়া এই নম্বরটি হল, ৮৯৬.......। মোবাইল সংস্থার তথ্য অনুসারে, ওই নম্বরের সিমটি ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা জনৈক সাহেবউদ্দিনের নামে কেনা। তবে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ফোনটি বন্ধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শহরে এক ডজন এটিএম জালিয়াতির ঘটনার প্রতিটি ক্ষেত্রে এই মোবাইল নম্বরটি এটিএমের গায়ে ইঞ্জিনিয়ারের মোবাইল নম্বর হিসেবে লেখা ছিল। প্রতারণার পর কাগজে লেখা এই নম্বরটি ছিঁড়ে নিয়ে পালিয়ে যেত চক্রের সদস্যরা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, মোবাইল সুইচড অফ থাকায়, তদন্ত কার্যত থমকে গিয়েছে। স্বভাবতই এই নয়া কায়দায় এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি লালবাজার বা রাজ্য পুলিসের কোনও থানা।
কলকাতা পুলিসের এক সূত্র জানাচ্ছে, পরিস্থিতি যে দিকে গড়াচ্ছে, তাতে শহরে এক ডজন এটিএম জালিয়াতির নেপথ্যে ঝাড়ণ্ডের জামতাড়া গ্যাংয়ের যোগ থাকার জোরালো সম্ভবনা রয়েছে। তবে এবিষয়ে নিশ্চিত হতে গোয়েন্দারা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কাছে এটিএমের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেয়ে পাঠিয়েছেন। এই ফুটেজ পেলে এই অপরাধের কিনারা হবে। কারণ, নয়া কায়দায় এই এটিএম জালিয়াতি ঠিক কোন কৌশলে হচ্ছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে গোয়েন্দা মহলে। বিশেষ করে, টাকা তোলার জন্য এটিএমের স্লটে কার্ড ঢোকানোর পর কেন তা আটকে যাচ্ছে, এখনও পরিষ্কার নয়। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দাদের অনুমান, খুব সম্ভবত প্রতারণার আগে এই চক্রের সদস্যরা এটিএম স্লটে কোনও ডিভাইস বা অ্যাডেসিভ লাগিয়ে রাখছে। আর তার জেরেই টাকা তুলতে গিয়ে কোনও গ্রাহক এটিএমে কার্ড ঢোকানো মাত্রই তা আটকে যাচ্ছে। গোয়েন্দাদের দাবি, ব্যাঙ্কের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট এটিএমের সিসিটিভি ফুটেজ পেলেই এটিএমে ঠিক কী কারসাজি করছে চক্রের সদস্যরা, তা স্পষ্ট হবে। এদিকে, কলকাতায় অতীতে কার্ড রিডার লাগিয়ে জালিয়াতির ঘটনায় রোমানিয়া গ্যাংয়ের সদস্যরা গ্রেপ্তার হতেই, শহরে নিয়ম করে এটিএমে নজরদারি চালাত সব থানার পুলিসকর্মীরা। হালে এই নজরদারিতে ঢিলেঢালা ভাব এসেছে। সম্ভবত তারই সুযোগ নিচ্ছে ভিনরাজ্যের জালিয়াত চক্র।