নীতীশ চক্রবর্তী, বেঙ্গালুরু: কয়েক মাস আগেই লঞ্চ হয়েছে আইপিও। তারপর থেকেই কার্যত উল্কার গতিতে ছুটছে দেশের সবচেয়ে পুরনো ইলেকট্রিক টু হুইলার স্টার্টআপ ‘এথার এনার্জি’। কিন্তু, এরপর কী? গত শনিবার বেঙ্গালুরুতে ‘কমিউনিটি ডে ২০২৫’ উদযাপন অনুষ্ঠানে সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিল এথার। এবছর মূলত দু’টি চমক দিয়েছে সংস্থাটি। একটি ‘ইএল প্ল্যাটফর্ম’ ও অন্যটি কনসেপ্ট স্কুটার ‘রিডাক্স’। তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের ই-স্কুটার লাইন আপের জন্য ফাস্ট চার্জিং ও ভয়েস টেকনোলজির মতো প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তির ঘোষণাও করেছে সংস্থাটি।
ইএল প্ল্যাটফর্ম ই-স্কুটারের জগতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে দাবি সিইও তরুণ মেহতার। তিনি জানান, এই স্কুটারের মূল কাঠামোটি ইউনিবডি স্টিল ফ্রেমের। যা আগের অ্যালুমিনিয়াম বডির তুলনায় অনেকটাই সাশ্রয়ী। এছাড়া একটি মূল কাঠামো হওয়ায় এর অ্যাসেম্বলিং প্রক্রিয়াও অন্তত ১৫ শতাংশ দ্রুত হবে। উৎপাদন খরচও কমবে। যার সুফল পাবেন ক্রেতারা। অভিনব বিষয় হল, এই ইএল প্ল্যাটফর্মের স্কুটারগুলি গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বদলানোও যাবে। এই মডুলার প্ল্যাটফর্মে একই ফ্রেমে বিভিন্ন ধরনের স্কুটার (যেমন ম্যাক্সি, স্পোর্টি বা ফ্যামিলি স্কুটার) তৈরি করা যাবে।
এথারস্ট্যাক ৭.০ সফটওয়্যার, এআই-চালিত ভয়েস কমান্ড, পটহোল অ্যালার্ট ও একাধিক নিরাপত্তা ফিচার সম্বলিত ইএল প্ল্যাটফর্মে নতুন ৬ কিলোওয়াট চার্জার থাকবে। যা ১০ মিনিট চার্জে ৩০ কিলোমিটার রেঞ্জ দেবে। বর্তমানে দেশের বাজারে ১ লক্ষ টাকার নীচে কোনও প্রিমিয়াম ই-স্কুটার নেই। সেখানে এথার-এর ইএল প্ল্যাটফর্মের প্রথম মডেল ‘ইএল০১’-এর দাম এক লক্ষের নীচে থাকবে বলে খবর। সংস্থার দ্বিতীয় চমক—‘রিডাক্স’। তবে এই বিষয়টি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
সংস্থা সূত্রে খবর, ‘প্রোজেক্ট রিডাক্স’ হল একটি কনসেপ্ট মোটো-স্কুটার। এতে চাবির প্রয়োজন হবে না। স্কুটারই তার মালিককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিনে নেবে। সিইও জানালেন, অ্যাডাপটিভ রাইড ডায়নামিক্স, পশচার-বেসড ট্রান্সফরমেশন’-এর মতো ফিচার থাকবে এই স্কুটারে। যা কল্পবিজ্ঞানের মতো শুনতে লাগলেও আসলে তা বাস্তব।