Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

পরীক্ষার শেষে...

বার্ষিক পরীক্ষা শুরু এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাই জোরকদমে পড়াশোনা চলছে

পরীক্ষার শেষে...
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

ভিক্টোরিয়া দেখব
 বার্ষিক পরীক্ষা শুরু এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাই জোরকদমে পড়াশোনা চলছে। তবে, পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে আমাকে দেখে কে! পড়ার চাপ থাকে না। এই ছুটিটা আমি জমিয়ে উপভোগ করি। নানান ধরনের বই পড়ি। কলেজ স্ট্রিটে গিয়ে নানা স্বাদের বই কিনি। বড়রা বলেন, গল্পের বই মানসিক চাপ কমাতে, মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও প্রতিবছর বাবা কোথাও না কোথাও ঘুরতে নিয়ে যান। জাদুঘর, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ময়দানে ঘুরতে যাই এই ছুটিতে। অবসর সময়ে ছবি আঁকি। বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ শিখি। আর রেজাল্ট হাতে পেয়েই আবার রুটিন তৈরি করে ফেলি। সুন্দরভাবে আগামী ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করি।
—স্নেহা বিশ্বাস,  অষ্টম শ্রেণি

Advertisement

সবুজ মাঠে
 নবম শ্রেণির শেষ পরীক্ষাটি দেওয়ার পর বাড়ি এসে প্রথমেই আমি কিছুদিন বিশ্রাম নেব। কারণ দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপের পর মনকে একটু বিশ্রাম দেওয়া দরকার। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে সবুজ মাঠে নিজেকে সতেজ করব। তারপর বাড়ি এসে অবসর সময়টা ভিন্ন স্বাদের গল্পের বই পড়ার ইচ্ছা আছে। আর যখনই কিছু করার থাকবে না তখন এ বছরের পাঠক্রমগুলির মধ্যে দিয়ে কোন জিনিসগুলি আমি দুর্বল ছিলাম সেগুলি ভালো করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ার চেষ্টা করব, যাতে পরবর্তী শ্রেণিতে বিষয়গুলি সহজ হয়ে ওঠে। এছাড়া, দশম শ্রেণিতে যে পড়ার বিষয়গুলি আছে, তা একবার জেনে নেওয়ার প্রয়াস করব। আমি চাই যে, এই সময়টা শুধু আনন্দ করে নয়, কিছুটা শেখার মধ্যে দিয়েও কাটুক। খেলাধুলো, বইপড়া ও নতুন কিছু শেখার মধ্যে দিয়ে নিজেকে আরও ভালোভাবে গড়ে তুলব। কারণ এই ফাঁকা সময়টা ভবিষ্যতে আমার অনেক কাজে লাগবে। পরিশেষে বলব, বাবা-মা বলেন, এই ভিত তৈরির সঠিক সময়। এই সময়টা কাজে লাগাতে পারলে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব।
—সৌম্যজিৎ নন্দী, নবম শ্রেণি

 

সঙ্গী প্রিয় গল্পের বই
 বার্ষিক পরীক্ষা শেষের ছুটির দিনগুলোই হল আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময়। এই সময় মন থাকে হালকা ও চিন্তামুক্ত। এই সময় পড়ার কোনও চাপ থাকে না। আমি আমার সময়মতো ঘুম থেকে উঠি, আমার সময়মতো বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলো করি, গল্প করি। এছাড়াও পরিবারের সকলের সঙ্গে আনন্দ করি। যেমন বাবার সঙ্গে বাইরে হাঁটতে যাওয়া। আমার খুব ভালো লাগে। ছুটির দিনগুলিতে আমার প্রিয় গল্পের বই ও কমিক্স পড়ি। তাতে খুবই মজা লাগে এবং সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানও বাড়ে। আবার কিছু সময় ছবি আঁকি, গান শিখি বা হাতের কাজ করি যাতে ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। আমার ছুটি পড়লে বাবা সময় বের করে আমাদের নিয়ে ঘুরতে যান। মনে খুব আনন্দ হয়। অনেকদিনের পরিশ্রমের পর এই ছুটির দিনগুলো আমাদের জীবনে এনে দেয় শান্তি ও আনন্দ।
—স্বস্তিকা হরিজন, নবম শ্রেণি

 

মুক্তির স্বাদ
 পরীক্ষা শেষ, মানেই আমরা কয়েকদিনের জন্য মুক্ত বিহঙ্গ। এ যেন এক আলাদা মুক্তির স্বাদ। মনে এক অপূর্ব শান্তির অনুভব। অপেক্ষা শুধু পরবর্তী সময়ের। মনের মধ্যে এক অজানা অনুভূতির যাতায়াত, নতুন ক্লাসে ওঠার আনন্দ। হাতে পাওয়া একটু সময়ের ব্যবহার। পাড়ার মাঠে রোজ বিকেলে ক্রিকেট, কখনও ফুটবল খেলা। নিশিন্ত মনে রোজ রাতে স্কুলের লাইব্রেরি থেকে নেওয়া গল্পের বই পড়া। পরিবারের লোকের সঙ্গে রাত জেগে সিনেমা দেখা। নতুন ক্লাসে ওঠার জন্য কিছুটা প্রস্তুতি নেওয়া। ছুটির দিনে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাওয়া। এভাবেই কেটে যায় পরীক্ষা শেষের দিনগুলি।
—শুভম হরিজন, নবম শ্রেণি

 

নতুন বইয়ের গন্ধ
 পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে গান করা, গান শোনা, নতুন নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো আমার শখ। পরের মাসেই বার্ষিক পরীক্ষার শেষে একটা লম্বা ছুটি পড়ে যাবে। তবে, এখন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তুমুল ব্যস্ততার মধ্যে রয়েছি। বার্ষিক পরীক্ষার শেষের ছুটিতে আমার যা যা শখ সব পূরণ করব। নতুন নতুন জায়গায় ঘুরতে যাব, প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাব। গান শুনব, ছবি আঁকব। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় কাটবে। ছুটিতে ভাই-বোনেরা একসঙ্গে সুন্দর সুন্দর মুহূর্ত কাটাব। আবার নতুন বছরের পড়াশোনার জন্য প্রস্তুতিও নিতে হবে। কারণ এর পরের বছরেই জীবনের প্রথম সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দেব— মাধ্যমিক। ছুটির সমাপ্তির শেষে নতুন বছর, নতুন বইয়ের গন্ধ, নতুন পোশাক আর স্কুলে একটি নতুন ক্লাসে ফেরার পালা।
—বিদিশা কর্মকার, নবম শ্রেণি

গ্রামের বাড়ি যাব
 ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হবে। অন্য বছরের মতো এবছরেও আমাদের বার্ষিক পরীক্ষার পর ছুটি থাকবে। আমি এই ছুটির দিনগুলি কাটানোর জন্য কিছু চিন্তাভাবনা করে রেখেছি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আমাদের বাড়িতে জেঠু, জেঠিমা ও দাদা আসবেন। আমরা সবাই একসঙ্গে আমাদের গ্রামের বাড়িতে যাব। গ্রামের বাড়িতে আর এক জেঠুর পরিবার থাকে। এখনও পর্যন্ত যা ঠিক হয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর বেরিয়ে পড়ব গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য। গ্রামের বাড়ি যেতে গেলে খুব ভোর ভোর বেরতে হয়। ট্রেনে করে যেতে হয়। দূরত্ব অনেকখানি। তাই যেতে অনেকটাই সময় লাগে। প্রতিবারই ওখানে পৌঁছে আগে গোটা বাড়িটা ঘুরে দেখে নিই। সবুজে ভরা আমাদের গ্রাম। প্রাণ ভরা শ্বাস গ্রহণ করব। ইছামতী নদীর তীরে আমাদের গ্রাম। দেখেছি, অনেক ছেলে সেখানে মাছ ধরে। আমিও ইছামতী নদী দেখতে যাব, মাছ ধরা দেখব, নৌকা ভ্রমণে বেরব। আমাদের অনেকটা কৃষিজমি আছে। সেখানে গেলে দেখা যায়, কীভাবে কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলাচ্ছেন। গ্রামের মিষ্টি বিখ্যাত। আর শীতকালে গেলে খেজুর রস আর পিঠে খাওয়া যায়। নিজেদের পুকুরে সাঁতার কাটব। জেঠু ছিপ নিয়ে মাছ ধরে। আমার দেখতে খুব ভালো লাগে। আমার জাঠতুতো দিদি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আমি ক্লাস এইটে উঠব। তাই দিদির বইগুলো একটু নেড়ে ঘেঁটে দেখব। গান করব। ভাই-বোনেরা মিলে রাতে পিকনিক করব। এভাবেই কেটে যাবে ছুটির দিনগুলো। তারপর আবার নতুন ক্লাসের পড়া।
—মৌ ঘোষ, সপ্তম শ্রেণি

 

তেঘরিয়া শশিভূষণ হাই স্কুল

 সালটা ১৯৬৬। স্বাধীনতা এলেও তখনও তার স্বাদ পায়নি গোটা বাংলা। অশিক্ষা আর কুসংস্কার ছেয়ে আছে বহু জায়গায়। এইরকমই একটি অঞ্চল হল— বারাকপুর মহকুমার অন্তর্গত মুড়াগাছার তেঘরিয়া (সোদপুর-মধ্যমগ্রাম রোডের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত)। শুরু থেকেই এখানে বহু ভাষাভাষীর বাস। তাই সংস্কৃতিও মিশ্র। এইস্থানে বসবাস করতেন শশীভূষণ রায় চৌধুরী। সাবর্ণ রায় চৌধুরীদের বংশধর। তিনি ছিলেন বিপ্লবী ও অনুশীলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তাঁর ঐকান্তিক উদ্যোগে নিজের জমিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শুরু হল বিদ্যালয়। দিনটি ১৯৬৬ সালের ৮ জানুয়ারি। পরবর্তী সময়ে স্কুলটিকে স্ব-মহিমায় আত্মপ্রকাশ করতে অগ্রণী ভূমিকা নেন প্যারীমোহন রায় চৌধুরী। ১৯৮৪ সালে জুনিয়র হাই স্কুলের স্বীকৃতি মেলে। ১৯৯৬-তে মাধ্যমিক এবং ২০০৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের অনুমোদন পায়। স্কুলটি কো-এড। বহু ছাত্রছাত্রী ফার্স্ট জেনারেশন লার্নার। ছাত্রছাত্রী সংখ্যা এক হাজারের বেশি। পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে আছে নানাধরনের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলোতে রয়েছে অজস্র পুরস্কার। প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার ফিরোজ আলি, মহম্মদ রফিক এই স্কুলের ছাত্র। গোটা স্কুল চত্বর সিসি ক্যামেরায় মোড়া। লাইব্রেরি থেকে মিড ডে মিল সর্বত্রই পরিচ্ছন্নতার ছাপ।
তবে স্কুল চালাতে গিয়ে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বর্ষাকালে স্কুলে জল জমে থাকে। এমনকী ক্লাসরুমেও জল উঠে আসে। তখন আর ক্লাস করা যায় না। গোটা স্কুলটিতে রঙের প্রলেপ পড়েনি বহুদিন। স্কুল সংলগ্ন মাঠটি সংস্কার করতে প্রয়োজন অর্থের। তাই সর্বস্তরের সহযোগিতা চাই। আশা রাখি, আগামী দিনে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী পরিচালন সমিতির সহায়তায় ও ঐকান্তিক চেষ্টায় বিদ্যালয়ের প্রভূত অগ্রগতি ঘটবে।
—লিটন বিশ্বাস, প্রধান শিক্ষক

 

সম্পর্কিত সংবাদ