নয়াদিল্লি: হরিয়ানার ট্রাভেল ভ্লগার জ্যোতি মালহোত্রা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে পুলিসের নজরে রয়েছে ‘ঘরশত্রু বিভীষণ’রা। রবিবার রাতে পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের ব্যবসায়ী শেহজাদকে। চর সন্দেহে সোমবার পর্যন্ত তিন রাজ্য থেকে মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ ভ্লগার, কেউ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র। ব্যবসায়ী থেকে নিরাপত্তা রক্ষী— কে নেই তালিকায়। এর মধ্যে চারজন হরিয়ানার, ছ’জন পাঞ্জাবের, আর একজন উত্তপ্রদেশের।
ইউটিউবার তথা লাস্যময়ী ভ্লগার জ্যোতিকে গ্রেপ্তারির পর হরিয়ানার হিসার থানার পুলিস ও অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, মূলত তরুণ প্রজন্মকে টার্গেট করছে ‘শত্রু’দেশ। সহজ উপায়ে টাকা পাওয়ার লোভে দেশের গোপন তথ্য অন্য দেশের হাতে তুলে দিতে দ্বিধাবোধ করছে না তারা। সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেবেন্দ্র সিং ধিলোঁকে। পাতিয়ালার খালাসা কলেজের ছাত্র দেবেন্দ্র রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করত। ফেসবুকে লাগাতার পিস্তল, বন্দুকের ছবি পোস্ট করত সে। গত বছর নভেম্বর মাসে পাকিস্তানে গিয়েছিল দেবেন্দ্র। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, আইএসআইকে একাধিক সংবেদনশীল খবর দিয়ে এসেছিল দেবেন্দ্র। আবার পাকিস্তানের হ্যান্ডলার হিসেবে কাজ করত হরিয়ানার নিরাপত্তারক্ষী নৌমন ইলাহি। নিয়মিত সে দেশ থেকে টাকাও নিত সে। ভারত-পাক সংঘর্ষের আবহে গোপন তথ্য পাচার করার অভিযোগ উঠেছে হরিয়ানার নুহের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সি আরমানের বিরুদ্ধে। এই জেলা থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে তারিফ নামের আর এক যুবককেও। পাকিস্তানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নিয়মিত চ্যাট করত সে। আরমানের গ্রেপ্তারির পরেও সেই চ্যাট ডিলিট করেছিল তারিফ। রবিবার উত্তরপ্রদেশের রামপুর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে শেহজাদ। বিশেষ টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা খবর পাচার করত এই ব্যবসায়ী। সদ্য গুজরাত পুলিসের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে মহম্মদ মুর্তজা। একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছিল সে। সেটির মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য পাচার করত। এছাড়াও পাঞ্জাবের গজলা ও ইয়ামিন মহম্মদকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই অভিযোগে।