নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল। এই অবস্থায় তদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার আগেই চোরবাগান বিপর্যয়কে ‘ছোটো ঘটনা’ অ্যাখ্যা দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু।
গত ১৭ অক্টোবর, দুর্গাপুজোর প্রথম সপ্তমীর দিন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গা পুজোর প্রাঙ্গণে। ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ওই ঘটনায়। ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতালে গিয়েআহতদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। ঘটনাচক্রে সেই সময় কলকাতায় এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি তাঁর যাবতীয় কর্মসূচি বাতিল করেন। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখে আসেন। এমনকিওই সময় রাজ্যে বিজেপি সরকারের মন্ত্রীরা যাবতীয় কর্মসূচি বাতিল করেন। চোরবাগানের ওই ঘটনা নিয়ে প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত চালাচ্ছে।
ঠিক এই প্রেক্ষাপটে সোমবার বিধানসভায় নিজের ঘরে বসে চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে মত প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই দুর্গা পুজোতে আনন্দ করেছি। ছোট্ট একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেটার জন্য মনটা ভারাক্রান্ত হয়েছিল।’ বিধানসভার অধ্যক্ষের এই বক্তব্য সামনে আসার পর সেই ভিডিও ফেসবুকে তুলে ধরেন মমতাপন্থী তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, ‘মাননীয় বিধানসভার অধ্যক্ষ, পুজোয় চোরবাগানের মৃত্যুর মিছিল ছোট্ট ঘটনা? মুখ থেকে বের হল? বিবৃতি দিয়ে সংশোধন করে নেওয়া প্রয়োজন। তালিকা তৈরি রাখুন। এরপর অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাবে চোরবাগানোর নিহত প্রত্যেকের নাম রাখতে হবে।’ বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান বলেন, ‘বিধানসভায় বিধায়কদের কাছে অধ্যক্ষ হলেন অভিভাবক। কিন্তু চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা স্পিকার যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে বলার কোনো ভাষা নেই। দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্য। দায়িত্বশীল ব্যক্তি উনি। দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে ওই ধরনের মন্তব্য হতাশাব্যাঞ্জক।’
অন্যদিকে, এদিন রাজ্যপাল আর এন রবি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। একাধিক বিষয়ে নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। পরে তিনি সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বিধায়কদের একটি কাজ দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক মাসে ১০০টি করে গাছ নিজের বিধানসভা এলাকায় বসাতে হবে বিধায়কদের। সেগুলি তিন বছর ধরে পরিচর্যা করা হবে।



